সিএইচটি রেগুলেশনকে রক্ষার আহ্বান পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের

0

সিএইচটি নিউজ ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩

আন্তর্জাতিক পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশনের বিরুদ্ধে চলমান মোকদ্দমা বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এই রেগুলেশনকে রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।

গতকাল ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ এক বিবৃতিতে কমিশন আরও জানায় যে, তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের সুশীল সমাজের নেতাদের সাথে হাত মিলিয়েছে, যারা এই গুরুত্বপূর্ণ আইনকে রক্ষার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বিবৃতিতে কমিশন বলেছে, ‘সংবাদ মাধ্যমের ভাষ্য মতে জানা যায়, আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৯০০ সালের রেগুলেশনের বৈধতা নিয়ে সম্প্রতি যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে সে ব্যাপারে পার্বত্য চট্টগ্রামের সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় আইন বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন। তারা মনে করেন যে, এই আইনটির মৌলিক দিকগুলোর বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন একটি অসৎ পরিকল্পনার সন্দেহ জন্ম দিয়েছে।’

কমিশন জানায়, ‘২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর Wagachara Tea Estate Ltd. বনাম Muhammad Abu Taher & Others 16 BLD (AD) 36, (2016)  মামলায় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন ১৯০০-কে একটি বৈধ ও কার্যকরী আইন বলে ঘোষণা করেছে। এরপর ২০১৭ সালে Government of Bangladesh ebvg Rangamati Food Products and Others 69 DLR (AD) 2017 মামলায়ও সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের রায়কে বাতিল করে দেন, যে রায়ে ১৯০০ সালের রেগুলেশনকে একটি “মৃত আইন” বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। অন্য কথায়, Rangamati Food -এর মামলায় আদালত পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশনের বৈধতা ও ধারাবাহিকতাকে বহাল রাখার ক্ষেত্রে Wagachara মামলার রায়ের ধারা অব্যাহত রাখেন।’

পার্বত্য কমিশন উক্ত বিবৃতিতে বলেছে, ‘তবে ২০১৮ সালে খাগড়াছড়ি থেকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে অপরিচিত দুই জন অভিবাসী বাঙালি উক্ত দুই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেন, যা আদালত সীমিতভাবে গ্রহণ করেন।

‘মিডিয়া রিপোর্ট মতে, আজ পর্যন্ত ঐ পিটিশন খারিজ না হওয়ায় আইন বিশেষজ্ঞরা তাতে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন, কারণ এই পিটিশন কেবল সরকারের অবস্থানকে নয়, সুপ্রীম কোর্টের রায়গুলোকেও চ্যালেঞ্জ করেছে।’

কমিশনের মতে যা আশ্চর্যজনক তা হলো, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের ঘোষিত নীতি ও বক্তব্যের বিপরীতে সরকারেরই প্রতিনিধি হিসেবে এটর্নি জেনারেল “রাজা” ও “আদিবাসী” সহ প্রথাগত আইন সম্পর্কিত কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ শব্দ, বাক্য ও অনুচ্ছেদ বাদ দেয়ার জন্য আবেদন করেছেন। মিডিয়া রিপোর্ট মতে, এটাকে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী ও স্থায়ী বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে, যে ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত রয়েছেন স্বয়ং সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী একজন কর্মকর্তা।

‘এ বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য পার্বত্য জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একটি দল গত ২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারী এবং ২০২৩ সালের ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন, যেখানে বিষয়টির গুরুত্ব এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের নাগরিকদের এবং বিশেষত আদিবাসীদের অধিকার, কল্যাণ ও ঐতিহ্যের ওপর তার প্রভাব সম্পর্কে জোর দিয়ে তুলে ধরা হয়।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের আদিবাসী জনগণের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন ১৯০০ বিশাল গুরুত্ব বহন করে বলে কমিশন মনে করে, কারণ এই রেগুলেশন ঐতিহ্যগত আদিবাসী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সীমিত স্বায়ত্তশাসন প্রদান করে এবং তাদের ভূমি, অঞ্চল, সম্পদ ও পারিবারিক আইন সম্পর্কে প্রথাগত আইন, রীতিনীতি ও প্রথাকে সমুন্নত রেখেছে। এই রেগুলেশন হলো এই অঞ্চলের আদিবাসীদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার ও অন্যন্য ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল।

পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৯০০ সালের রেগুলেশনের বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সাম্প্রতিক প্রচেষ্টাকে একটি বড় উদ্বেগের বিষয় বলে মন্তব্য করে বলেছে, ‘যদি এই রেগুলেশনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয় বা অন্য কোনভাবে দুর্বল করা হয়, তাহলে তা পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদেরকে আরও বেশি প্রান্তিক অবস্থানে নিয়ে যাবে এবং এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করবে।

‘এটা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বাস্তবায়নের অগ্রগতিকে এবং ভূমি কমিশনের প্রচেষ্টাকে বিপদাপন্ন করে তুলবে। এটা বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক ও বহু-সাংস্কৃতিক চরিত্রের ওপরও খারাপ প্রভাব ফেলবে।’

কমিশন পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন ১৯০০-কে বলবৎ রাখার পক্ষে তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগণের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার রক্ষা করতে সকল অংশীজনদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন কমিশনের তিন কো-চেয়ার সুলতানা কামাল, এলসা স্ট্যামাটোপৌলৌ ও মিরনা ক্যানিংহ্যাম কেইন।


সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।


সিএইচটি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More