সিএইচটি রেগুলেশন বাতিলের ষড়যন্ত্র বন্ধের দাবিতে চট্টগ্রামে তিন সংগঠনের বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪
উচ্চ আদালত কর্তৃক ১৯০০ সালের হিলট্র্যাক্টস রেগুলেশন বাতিলের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এবং পাহাড়িদের প্রথাগত ভূমি আইনের স্বীকৃতির দাবিতে চট্টগ্রাম নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, হিল উইমেন্স ফেডারেশন।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুলাই ২০২৪) বিকালে একটি মিছিল চট্টগ্রাম ডিসি হিল থেকে শুরু হয়ে প্রেসক্লাব প্রদক্ষিণ করে চেরাগী পাহাড় পাদদেশে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে যুব নেতা শুভ চাকের সভাপতিত্বে ও পিসিপি নেতা দেবাশীষ চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন হিল উইমেন্স ফেডারেশের কেন্দ্রীয় সদস্য জেসি চাকমা, পাহড়ি ছাত্র পরিষদের চবি শাখার সভাপতি রোনাল চাকমা, ইউনাইটেড ওয়ার্কার্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি বিজয় চাকমা।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতার পরবর্তী থেকে সরকার পাহাড়িদের বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। পাহাড়ে ৫ দশকেরও অধিক মিলিটারী শাসন জারি রেখে পাহাড়িদের নির্মমভাবে নির্যাতন করে যাচ্ছে। দেশের এই রাষ্ট্র ব্যবস্থা পাহাড়িদের অস্তিত্ব বিলীন করে দিতে একের পর এক খুন-গুম-ধর্ষণ, জ্বালাও পোড়াও অব্যাহত রেখেছে। পাহাড়ে যুগ যুগ ধরে বসবাসরত পাহাড়ি জনগণের জন্য ব্রিটিশ সরকারের প্রণীত বিশেষ শাসন বিধি ১৯০০ সালের আইন বাতিলে বারবার ষড়যন্ত্রণ চালিয়ে যাচ্ছে।

১৯০০ সালের রেগুলেশন পাহাড়িদের রক্ষা কবচ উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, পাহাড়ি জনগণ প্রথাগত আইনে বিশ্বাসী। সরকার পাহাড়ি জনগণের প্রথাগত সামাজিক রীতিনীতি ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ, ভূমি অধিকার ও প্রণীত বিশেষ রক্ষাকবচ রক্ষা না করে বাতিল করে দেওয়ার প্রচেষ্টা করছে। ১৯০০ সালের শাসন বিধিমালা তোয়াক্কা না করে ৭০-৮০ দশকে ৪ লক্ষাধিক সেটলার বাঙালি আমদানি করে পাহাড়িদের অস্তিত্ব আরো ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তারা পুরো পাহাড় দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রের এহেন জাতি ধ্বংস ও আগ্রাসী নীতিই আজ পাহাড়ি জনগণকে অস্তিত্ব ও মানবিক বিপর্যয়ে ফেলে দিয়েছে।
তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি জনগণের ওপর অব্যাহত দমন পীড়ন ৭১-এর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তথা শাসন ব্যবস্থাকেও হার মানায়। নির্যাতক পাক সরকার ও তার হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যেমনি পূর্ব বাংলার জনগণ প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে তুলেছিল, তেমনি পাহাড়ি জনগণও এই দেশের নির্যাতক সরকারও তার দোসরদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রাম করে যাবে।
বক্তারা অবিলম্বে সরকারকে ১৯০০ সালের শাসনবিধি বাতিলের ষড়যন্ত্র বন্ধ করার আহ্বান জানান।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।