সীতাকুণ্ডে দুই ত্রিপুরা কিশোরী হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৩

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুই ত্রিপুরা কিশোরী হত্যা মামলার আসামি আবুল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। আরেক আসামি ওমর হায়াত মানিকের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ না হওয়ায় আদালত তাঁকে বেকসুর খালাস দিয়েছে।
বুধবার (২৫ জানুয়ারি ২০২৩) দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলীম উল্ল্যাহ এ রায় দেন। মামলার রায়ে আদালত আবুল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আবুল হোসেন ও ওমর হায়াত মানিক আদালতে হাজির ছিলেন।
মুত্যুদণ্ডে দণ্ডিত আবুল হোসেন সীতাকুণ্ড পৌরসভার মহাদেবপুর চৌধুরী পাড়ার মো. ইসমাইলের ছেলে।
সাজা পরোয়ানা মূলে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আবুল হোসেনকে কারাগারে প্রেরণ করেছে আদালত।
চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্তে গাফিলতি প্রমাণ হওয়ায় তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আদালত অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শককে আদেশ দিয়েছেন বলে জানান ট্রাইব্যুনালের পিপি অশোক কুমার দাশ।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৮ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সীতাকুণ্ড পৌরসভার জঙ্গল মহাদেবপুর পাহাড়ে ত্রিপুরা পাড়া থেকে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় দুই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন ত্রিপুরা পাড়ার পুলিন ত্রিপুরার মেয়ে সুকলতি ত্রিপুরা এবং সুমন ত্রিপুরার মেয়ে সবিরানী ত্রিপুরা। সে সময় বিভিন্ন সংগঠন এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিল।
ঘটনার পর চট্টগ্রামের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) নূরে আলম মিনা জানিয়েছিলেন, বখাটে আবুল হোসেন কিশোরী সুকলতিকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করত। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষুব্ধ আবুল হোসেন সুকলতিকে হত্যার উদ্দেশ্যে বন্ধু রাজীব ও মানিকসহ ত্রিপুরা পাড়ায় যায়। তারা সুকলতিকে গলায় নাইলনের রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পাশের ঘর থেকে সবিরাণী ত্রিপুরা ঘটনা দেখে ফেলায় তাকেও একইভাবে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় সুমন ত্রিপুরা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। আসামিরা হলেন আবুল হোসেন, ওমর হায়াত মানিক এবং মো. রাজীব।
মামলা দায়েরের পরদিন ১৯ মে পুলিশ আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করে। ওইদিনই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে আবুল হোসেন জানায়, আম পাড়ার রশি দিয়ে আবুল হোসেন সুকলতিকে এবং রাজীব ও মানিক মিলে সবিরাণীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। ২০১৮ সালের ২৯ মে আসামি রাজীব দুর্বৃত্তের গুলিতে খুন হয়।
মামলার নথিপত্র পর্যালোচনার পর রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অশোক কুমার দাশ জানান, সুমন ত্রিপুরার দায়ের হওয়া মামলা তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি আবুল হোসেন ও মানিককে আসামি করে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। রাজীব মারা যাওয়ায় তাকে বাদ দেয়া হয়। ওই বছরের ৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ২০২২ সালে মামলা বিচারের জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আসার পর মোট ১৯ জনের সাক্ষ্য নেয় রাষ্ট্রপক্ষ।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
সিএইচটি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন