পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার লংঘন বন্ধের দাবিতে রাঙামাটির কুদুছড়িতে তিন সংগঠনের বিক্ষোভ
রাঙামাটি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শনিবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৩

পার্বত্য চট্রগ্রামের রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট ঠ্যাঙারে বাহিনীর সন্ত্রাসসহ মানবাধিকার লংঘন বন্ধের দাবিতে রাঙামাটির কুদুকছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম।
আজ শনিবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৩) জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সফরকে সামনে রেখে আয়োজিত মিছিল পরবর্তী সমাবেশে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের রাঙামাটি জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সতেশ চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ইউপিডিএফ সংগঠক নির্ণয় চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের রাঙামাটি জেলা দপ্তর সম্পাদক রিপা চাকমা ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি নিকন চাকমা।
বক্তারা বলেন পার্বত্য চট্রগ্রামের পাহাড়ি জনগন যুগযুগ ধরে রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক মানবাধিকার লংঘনের ভুক্তভোগী। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর হতে পাহাড়ে চলে আসছে একের পর এক মানবাধিকার লঙ্ঘন। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির পরও বন্ধ হয়নি পাহাড়ের রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন-নির্যাতন, অন্যায়-অবিচারসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা। এখনও প্রতিনিয়ত অন্যায় ধরপাকড়, বিচারবহির্ভুত হত্যা, ভূমি বেদখল, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে।

তারা বলেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনী নিজেরাই দমন-পীড়নের পাশাপাশি নব্যমুখোশসহ ঠ্যাঙারে বাহিনীর সন্ত্রাসীদের মদদ যুগিয়ে তাদেরকে লেলিয়ে দিয়ে খুন, গুম, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত করে যাচ্ছে। ২০১৭ সালে নব্য মুখোশ বাহিনী সৃষ্টি করে পাহাড়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা করছে সেনাবাহিনীর একটি কায়েমী স্বার্থবাদী অংশ। এই সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে ২০১৭ সালে নান্যাচরের বেতছড়িতে সাবেক মেম্বার অনাদি রঞ্জন চাকমাকে হত্যা, ১৫ ডিসেম্বর ইউপিডিএফ সংগঠক অনল বিকাশ চাকমা প্লুটোকে হত্যা, ২০১৮ সালের ৩ জানুয়ারি খাগড়াছড়ি সদরে ইউপিডিএফ সংগঠক মিঠুন চাকমাকে দিনে দুপুরে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যা, একই বছর ১৮ আগস্ট স্বনির্ভর বাজারে সাত খুনসহ অসংখ্য লোককে তারা হত্যা করেছে। নান্যাচরে সেনা হেফাজতে নির্যাতন চালিয়ে ছাত্র নেতা রমেল চাকমাকে হত্যা, একই কায়দায় দীঘিনালায় ইউপিডিএফ নেতা নবায়ন চাকমা মিলনকে হত্যাসহ আরো অনেক ইউপিডিএফ নেতা-কর্মীকে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু এসব ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার ও বিচার করা হয়নি।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সেনাশাসন অপারেশন উত্তরণ ও স্বষ্ট্রমন্ত্রলায়ের দমনমূলক ১১ নির্দেশনার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে অবর্ণনীয় জুলুম-নির্যাতন চালানো হচ্ছে। গণতান্ত্রিক সভা-সমাবেশসহ মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। আর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আড়াল করতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও পর্যবেক্ষকদের পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
বক্তারা অবিলম্বে সেনাশাসন ও দমনমূলক ১১ নিদের্শনা তুলে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করা ও সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির দাবি জানান।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
সিএইচটি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন