বান্দরবানে সেনাবাহিনীর অভিযানে একজন নিহত
সিএইচটি নিউজ0–ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬

বান্দরবান, সিএইচটি নিউজ
মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের মুরং বাজার এলাকায় সেনাবাহিনীর অভিযানে একজন নিহত হয়েছেন।
গতকাল সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকালে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম হ্লামংনু মারমা বলে জানা গেছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিকে জেএসএস (সন্তু)-এর সদস্য বলে দাবি করা হয়েছে।
রোয়াংছড়ি থানার ওসি এম সাকের আহমেদ বলেন, “সেনাবাহিনীর সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে শুনেছি।”
বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা দিলীপ চৌধুরী বলেন, “রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই যুবককে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরে গুলি লেগেছে কি না, আমি দেখিনি। তবে তার ডান হাত ও ডান পা থেঁতলানো মনে হয়েছে। আনুমানিক ৩০ বছরের ওই যুবককে অজ্ঞাত হিসেবে দেখানো হয়েছে।” (সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)।
গতকাল রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর ফেসবুক পেইজে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার মুরং বাজার এলাকায় ‘জেএসএস (মূল)’ এর সশস্ত্র দলের বিরুদ্ধে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে সেনা সদস্যরা সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দলটিকে অবৈধ ভাবে চাঁদা আদায় কালে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় জেএসএস (মূল) সদস্যরা পালানোর চেষ্টাকালে সেনাবাহিনীর টহল দলের উপর গুলি বর্ষন করে। সেনাবাহিনীর টহল দল পাল্টা গুলি বর্ষন করে তাদের ধাওয়া করে। প্রাথমিকভাবে তারা একটি স্কুল ঘরে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করে এবং এক পর্যায়ে উক্ত স্থান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
“এই অভিযানে সেনা টহল দল ঘটনাস্থল তল্লাশি চালিয়ে ইউনিফর্ম পরিহিত হ্লামংনু মার্মা নামক একজন সশস্ত্র জেএসএস (মূল) সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। তার চিকিৎসার জন্য পুলিশের সহায়তায় জরুরী ভিত্তিতে তাকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
“অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে ১টি সাবমেশিনগান (SMG), ১৪৩ রাউন্ড এসএমজি অ্যামোনিশন,১৪ রাউন্ড পিস্তলের অ্যামোনিশন, ৫ রাউন্ড ব্লাঙ্ক অ্যামোনিশন, ২টি অস্ত্রের ম্যাগাজিন এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।”
এদিকে, ‘গোলাগুলির’ বিষয়ে রোয়াংছড়ি থানার ওসি বলেন, “বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সেনাবাহিনীর টহল দল ও একদল অস্ত্রধারী মুখোমুখি হলে তাদের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। এক পর্যায়ে অস্ত্রধারীরা ফাঁকা গুলি করে জঙ্গলে পালিয়ে যায়।”
স্থানীয়দের বরাতে অস্ত্রধারীরা জেএসএস সদস্য বলে সাংবাদিকদের তথ্য দেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।
ঘটনাস্থলটি বান্দরবান-রুমা সড়কে অবস্থিত। জেলা শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। এলাকাটি ম্রো অধ্যুষিত। এর আশপাশে কিছু খুমি, ত্রিপুরা ও মারমা পরিবারও বসবাস করে।
তারাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উনুমং মারমা সাংবাদিকদের বলেন, বিকালে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাইরুন পাড়ার দিকে স্থানীয়রা গোলাগুলির শব্দ শুনেছেন বলে তাকে জানিয়েছেন। যে এলাকায় ঘটনা ঘটছে, সেখানে কোনো মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক নেই।
ঘটনার বিষয়ে জেএসএস’র পক্ষ থেকে এখনো কোন প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই সংঘটিত এ ঘটনায় নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, এ নির্বাচনে জেএসএস (সন্তু) বান্দরবানসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি আসনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিএনপি প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছে এবং তারা বিজয়ী হয়েছেন। ফলে ঘটনাটি পরিকল্পিত ও ‘নাটকীয়’ কিনা তা নিয়ে অনেকে সন্দেহ পোষণ করছেন।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
