রামগড়ে ৭ম শ্রেণীর পাহাড়ি ছাত্রীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মিছিল ও সমাবেশ
রামগড় প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শুক্রবার, ২৪ মার্চ ২০২৩

খাগড়াছড়ির রামগড়ে ৭ম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক পাহাড়ি স্কুল ছাত্রী দুই সেটলার বাঙালি দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ ২০২৩) সকালে রামগড়ের পাতাছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মো. শাহীন আলম ও মো. আলী নামে দুজনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।
উক্ত ঘটনার প্রতিবাদে ও ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ শুক্রবার (২৪ মার্চ) এলাকাবাসী মিছিল ও সমাবেশ করেছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গুইমারা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী গতকাল সকালে তার শিক্ষা সংক্রান্ত কাজে বিদ্যালয়ে শিক্ষকের কাছে যায়। কাজ শেষে সকাল সাড়ে ১১টার সময় বাড়ি ফেরার পথিমধ্যে পাতাছড়া এলাকায় তাকে একা পেয়ে মোটর সাইকেল চালক সেটলার মো. শাহীন আলম ও মো. আলী তাকে ধরে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় ছাত্রীর চিৎকার শুনে আশে-পাশের পথচারী বাঙালি লোকজন ছুটে গিয়ে ছাত্রীকে উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে মো. শাহীনকে ধরে ফেলতে সক্ষম হয়। আরেক ধর্ষক মো. আলী পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উদ্ধারের সময় ছাত্রীর গলায় রশি পেঁচানো ছিল। ধর্ষকরা ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার পরিকল্পনা করে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা।
ধর্ষণকারী মো. শাহীন আলম-এর পিতার নাম মো. শামসু ও মো. আলীর পিতার নাম আব্দুল কাদের। তারা উভয়ে পাতাছড়া ইউনিয়ন সদর এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পরে লোকজন পাতাছড়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার সুতিয়া ত্রিপুরাকে খবর দিলে তিনি (মেম্বার) ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকার লোকজনকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ধর্ষক মো. শাহীনকে রামগড় থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করেন। এরপর পুলিশ মো. শাহীনের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে অপর ধর্ষক মো, আলীকেও আটক করতে সক্ষম হয়।
এরপর ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে মো. শাহীন ও মো. আলীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযুক্তদের আজ সকালে খাগড়াছড়ি আদালতে পাঠিয়ে দেয় বলে জানা গেছে।
উক্ত ধর্ষণের প্রতিবাদে ও ধর্ষক মো. শাহীন আলম ও মো. আলীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ শুক্রবার (২৪ মার্চ) রামগড় উপজেলার খাগড়াছড়ি-ঢাকা সড়কের যৌথ খামার এলাকায় মিছিল ও সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী।
মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাজার চৌধুরী পাড়ার বিশিষ্ট মুরুব্বী মংমং চৌধুরী, পাড়াকেন্দ্র শিক্ষক রত্না ত্রিপুরা, সাবেক ইউপি মেম্বার বুলু মারমা প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে যেভাবে নারী ধর্ষণ, খুন ও নির্যাতন বৃদ্ধি পেয়েছে তার জন্য সরকারের লজ্জা পাওয়া উচিত। কারণ সরকার এ ধরনের ঘটনা বন্ধে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। নারী ধর্ষণ, খুন, নির্যাতনের ঘটনায় উপযুক্ত বিচার না হওয়ায় বারবার এমন জঘন্য ঘটনা ঘটছে।
তারা আরো বলেন, গতকাল রামগড়ে ৭ম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণকারী মো. শাহীন ও মো. আলীকে পুলিশ আটক করলেও ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে কীনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তারা গত ৫ মার্চ রাঙ্গুনিয়ায় এনজিও কর্মী চম্পা চাকমাকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনায় অভিয়ুক্ত ব্যক্তিকে এখনো আটক না করার ঘটনা তুলে ধরেন। শুধু তাই নয়, এ যাবত পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি নারীদের ওপর সংঘটিত ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার কোন ঘটনারই বিচার হয়নি বলে বক্তারা অভিযোগ করেন।
সমাবেশ থেকে বক্তারা ধর্ষক মো. আলী ও শাহীন আলমের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে নারী ধর্ষণ-নির্যাতন বন্ধ করার দাবি জানান।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
সিএইচটি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন