লামা ও মাটিরাঙ্গায় নারী নির্যাতন ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার-শাস্তির দাবিতে কুদুকছড়িতে বিক্ষোভ

0
29

রাঙামাটি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

লামা ও মাটিরাঙ্গায় নারী নির্যাতন ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার-শাস্তির দাবিতে রাঙামাটির কুদুকছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল করে হিল উইমেন্স ফেডারেশন রাঙামাটি জেলা শাখা।

‘ধর্ষণসহ সকল প্রকার নারী নির্যাতন বন্ধ কর’ এই স্লোগানে বান্দরবানের লামায় মারমা নারীকে ধর্ষণকারী মো. কায়সার ও খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় এক পাহাড়ি গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টাকারী মো. সাদ্দামকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাঙামাটির কুদুকছড়িতে বিক্ষোভ  মিছিল ও সমাবেশ করেছে হিল উইমেন্স ফেডারেশন রাঙামাটি জেলা শাখা।

‌ আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ইং মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় মিছিল পরবর্তী অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক নিশি চাকমা, দপ্তর সম্পাদক রিপা চাকমা ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি)-এর রাঙামাটি জেলা শাখার সহ সাধারণ সম্পাদক আনন্দ চাকমা। সমাবেশে সঞ্চালনা করেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের রাঙামাটি জেলা শাখার সদস্য নিকা চাকমা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশে সরকার প্রধান একজন নারী হয়েও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে নারীরা চরম অনিরাপত্তায় রয়েছে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি নারীরা কোথাও আজ নিরাপদ নয়। সেটলার বাঙালি দুর্বৃত্তদের দ্বারা আমাদের মা বোনরা কুয়ো থেকে পানি আনতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়, ক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়, স্কুল কলেজে গেলেও ধর্ষণ-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, রাস্তা-ঘাটে এমনকি নিজ বাড়িতে পর্যন্ত ধর্ষণ-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। সম্প্রতি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় নিজ বাড়িতে মো. সাদ্দাম কর্তৃক পাহাড়ি গৃহবধু ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হওয়ার ঘটনা তারই দৃষ্টান্ত। এর আগে ২০২০ সালে খাগড়াছড়ি সদরের বলপিয়ে আদামে ৯ জন সেটলার দ্বারা এক প্রতিবন্ধি নারী গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন।

বক্তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শুধু ধর্ষণ নয়, সমানতালে ভূমি বেদখল করে পাহাড়ি উচ্ছেদ, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, অন্যায় ধরপাকড়, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির মতো ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে। আর রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও সরকারের প্রশাসন এসব ঘটনাগুলো সংঘটিত করে ও মদদ যোগায়। মাটিরাঙ্গায় ধর্ষণ চেষ্টাকারী মো. সাদ্দামকে বিজিবি ক্যাম্প থেকে ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে তারা দুর্বৃত্তদের রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে।

বক্তারা বলেন, এদেশের শাসকগোষ্ঠি পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে পাহাড়ি জনগণকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায়। যার কারণে যুগ যুগ ধরে সেনাশাসন জারি রেখে পাহাড়িদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে এ যাবত যতগুলো পাহাড়ি নারী ধর্ষণ, খুন, নিপীড়ন ও ভূমি বেদখলসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে তার কোনটিরই বিচার হয়নি। ফলে ধারাবাহিকভাবে এসব ঘটনা ঘটছে। শাসকগোষ্ঠির একপেশে দমননীতির কারণে পাহাড়িদের অস্তিত্ব আজ চরম হুমকির মুখে পড়েছে বলে বক্তারা মন্তব্য করেন।

বক্তারা শাসকগোষ্ঠীর সকল চক্রান্ত ও অন্যায় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য ছাত্রসমাজ ও নারীসমাজের প্রতি আহ্বান জানান।

সমাবেশ থেকে বক্তারা অবিলম্বে বান্দরবানে লামায় মারমা নারীকে ধর্ষণকারী মো. কায়সার ও মাটিরাঙ্গায় পাহাড়ি গৃহবধুকে ধর্ষণ চেষ্টাকারী মো. সাদ্দামকে গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।


সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।


সিএইচটি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.