আলুটিলা পর্যটন এলাকায় পাহাড়িদের ১২টি দোকান বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
খাগড়াছড়ির আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের আশেপাশে থাকা পাহাড়িদের অন্তত ১২টি দোকান কাগজপত্র না থাকার অজুহাতে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১ এপ্রিল ২০২৬) বিকাল আনুমানিক ৩টার দিকে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত-এর নেতৃত্বে একটি দল আলুটিলা পর্যটন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে জেলা প্রশাসক দোকানদারদের কাছ থেকে ‘কাগজপত্র আছে কিনা, জায়গাটা তাদের কিনা’ ইত্যাদি জিজ্ঞাসা করেন।

এ সময় কাগজপত্র না থাকার অজুহাতে পর্যটন কেন্দ্রের আশেপাশে থাকা পাহাড়িদের দোকানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব দোকানের মালিকরা সবাই ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযানের সময় স্থানীয় পাহাড়িরা দোকান বন্ধের কারণ জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক তাদেরকে জানান, দোকানগুলো অবৈধভাবে স্থাপিত এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক নেই। এ কারণে ভবিষ্যতে এসব দোকান চালু রাখা যাবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিরা অভিযোগ করে বলেন, আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের লোকজন অধিকাংশই অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। পর্যটন কেন্দ্রের ভেতরে দোকানের প্লট না পাওয়ায় তারা আশেপাশে ছোট ছোট দোকান গড়ে তুলে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। এসব দোকানই ছিল তাদের পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো পূর্ব সতর্কতা বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই হঠাৎ করে দোকানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা তাদের জীবিকার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। তারা এ ঘটনাকে “জীবিকার পথ বন্ধ করে দেওয়ার সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র’ বলে মনে করছেন।
অনেকে জেলা প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ‘সাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যমূলক আচরণ’ বলেও অভিহিত করেছেন।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাদের অনেকে বলছেন, সঠিকভাবে তদারকি করলে দেখা যাবে, খাগড়াছড়ি জেলা সদরের বহু দোকানেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি রয়েছে। সে তুলনায় শুধুমাত্র এই দোকানগুলোর বিরুদ্ধে এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়াকে তারা প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন। প্রয়োজনে তারা খাগড়াছড়ি সদরের সকল দোকানপাটের লাইসেন্স জনসমক্ষে প্রকাশ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
পাহাড়িদের বৃহৎ সামাজিক উৎসবের প্রাক্কালে জেলা প্রশাসনের এ ধরনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে ভুক্তভোগী দোকানদার ও স্থানীয় পাহাড়িদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তারা বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
