গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কাউখালী উপজেলা শাখার ৬ষ্ঠ কাউন্সিল সম্পন্ন

0


কাউখালি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কাউখালী উপজেলা শাখার ৬ষ্ঠ কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে। এতে ২১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

আজ সোমবার (১৫ ডিসেম্বর ২০২৫) বেলা ২ টায় কাউখালি উপজেলার ডাবুয়া এলাকায় এই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।

“হে তরুণ, জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে অগ্রণী সৈনিক হও” এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত কাউন্সিল অধিবেশনে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামে কাউখালি উপজেলার সভাপতি থুইনুমং মারমার সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক ক্যাথুই মারমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক ক্যামরণ দেওয়ান, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কুনেন্টু চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কাউখালি উপজেলা শাখার সভাপতি জিপল চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কাউখালী উপজেলা সাধারণ সম্পাদক একা চাকমা ও এলাকার মুরুব্বি আরেশি মার্মা।

অধিবেশন শুরুতে পার্বত্য চট্টগ্রামে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে যারা শহীদ হয়েছেন  তাঁদের প্রতি সম্মান দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

কাউন্সিল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা অপারেশন, দমন-পীড়ন ও ভূমি বেদখল বন্ধ করা, তল্লাশি চৌকি প্রত্যাহার এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির দাবি জানানো হয়।     

বক্তব্য রাখছেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কুনেন্টু চাকমা।

কাউন্সিলে বক্তারা বলেন, এমন এক সংকটময় সময়ে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতিনিয়ত সেনা অভিযান, ঘরবাড়ি তল্লাশি, নিপীড়ন-নির্যাতন, ধরপাকড় চলমান রয়েছে। তাই এই কাউন্সিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের কাউন্সিলের মাধ্যমে যারা দায়িত্ব নেবেন তাদেরকে আন্দোলনে আরো বেশি বলিষ্ট ভূমিকা পালন পালনসহ আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুব সমাজকে সংগঠিত করতে হবে।

তারা আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলের চেয়েও বর্তমান  ইউনুস সরকার দমন-পীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। এই দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

বক্তারা বলেন, শাসকগোষ্ঠি যুবকদের আন্দোলন বিমুখ করার জন্য নানা কূটকৌশল প্রয়োগ করছে। মদ, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক ঢুকিয়ে দিয়ে তাদেরকে মাদকাসক্ত করে রাখার ষড়যন্ত্র চলছে। তাই এ বিষয়ে যুব সমাজের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

বক্তারা জাতির দুঃসময়ে ছাত্র-যুব-নারী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই সংগ্রাম জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, শাসকগোষ্ঠীর সকল দমন-পীড়ন, নির্যাতনকে উপেক্ষা করে জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে সামিল হয়ে পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের অধিকার ছিনিয়ে আনতে হবে।

পরে পুরাতন কমিটি বিলুপ্ত করে একটি নতুন কমিটি ঘোষণা করে করা হয়।

২১ সদস্যের নতুন কমিটিতে ক্যাথুই মার্মাকে সভাপতি ও নিবাইমং মার্মাকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। নতুন কমিটির সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান গণতান্ত্রিক যুব ফোরামে কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক ক্যামরন দেওয়ান।

এরপর নবনির্বাচিত সভাপতি ক্যাথুই মার্মার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের কাউন্সিল সমাপ্তি হয়।

এদিকে, গতকাল থেকে সেনাবাহিনীর তৎপরতায় কাউন্সিল আয়োজনে ব্যাঘাত ঘটেছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More