পানছড়িতে কুসুম প্রিয় ও প্রদীপ লাল চাকমা’র স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

0

পানছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫

“শারীরিকভাবে খুন করা যায়, চেতনা ধ্বংস করা যায় না” এই শ্লোগানে পাহাড়ে খুনের রাজনীতির মূল হোতা রক্তপিপাসু সন্তুলারমার প্রতিহিংসার বলি যুবনেতা কুসুম প্রিয় ও প্রদীপ লালকে হত্যার ২৭ বছর উপলক্ষে তাদের স্মরণে খাগড়াছড়ির পানছড়িতে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল ২০২৫) সকাল ১১টায় বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম যৌথভাবে এই স্মরণ সভার আয়োজন করে।

স্মরণসভায় পিসিপির পানছড়ি উপজেলা সভাপতি সুনীল ময় চাকমার সভাপতিত্বে ও   গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের পানছড়ি উপজেলা সাধারণ সম্পাদক পরান্তু চাকমার সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন এলাকার মুরুব্বী কনক বরন চাকমা, মনিন্দ্র লাল ত্রিপুরা, নন্দ দুলাল চাকমা, পানছড়ি সদর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান অসেতু বিকাশ চাকমা, শহীদ পরিবারের সদস্য নিকাঞ্চন চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সাধারণ সম্পাদক পরিণীতা চাকমা,  পিসিপি’র খাগড়াছড়ি জেলা সাধারণ সম্পাদক তৃষ্ণাঙ্কর চাকমা, ছাত্র জনতার সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অনীল চন্দ্র চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বরুন চাকমা ও ইউপিডিএফ পানছড়ি ইউনিট সমন্বয়ক আইসুক ত্রিপুরা।

স্মরণসভা শুরুর আগে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

স্মরণসভায় সাবেক চেয়ারম্যান অসেতু চাকমা কুসুম প্রিয় চাকমাকে স্মরণ করে বলেন,  আমরা ক্লাশমেট ছিলাম। কুসুম প্রিয় চাকমার সাথে আমার ভারতে ঠাকুমবাড়িতে শেষ দেখা হয়, তখন তিনি শান্তিবাহিনীর সাথে ছিলেন। পরে ১৯৯৮ সালে ৪ এপ্রিল তাকে হত্যা করা হয়। আমার চিন্তা হয় জাতি হিসেবে আমরা কিভাবে টিকে থাকবো। তিনি চলমান সংঘাত আমাদের অবশ্যই বন্ধ হওয়া দরকার বলে মত প্রকাশ করেন।

কনক বরন চাকমা বলেন, প্রদীপ লাল চাকমা ও কুসুম প্রিয় চাকমা প্রতিবাদী ছিলেন, বলিষ্ট কন্ঠসর ছিলেন। যে কেউ অন্যায় করলে তারা প্রতিবাদ করতেন।

নন্দ দুলাল চাকমা বলেন, প্রদীপ লাল চাকমা আমার জুনিয়র ছিলেন। তবে জুনিয়র হলেও খুবই ট্যালেন্ট ছিলেন। কুসুমপ্রিয় চাকমার সাথে আমার তেমন পরিচয় ছিল না। সে সময় তিনি যখন নির্বাচনী প্রচার করছিলেন তখন তার সাথে আমার দেখা হয় এবং আমাকে প্রনাম করেন। তারা যদি বেঁচে থাকতেন আজ জাতির জন্য অনেক কিছু করতে পারতেন। তিনি সংঘাত পরিহার করে আগামীতে এক হয়ে লড়াই করে অধিকার প্রতিষ্ঠার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনীল চন্দ্র চাকমা বলেন, আমরা শহীদের রক্তের সাথে বেইমানি করতে পারি না। আমাদের পানছড়িবাসী সবসময় প্রতিবাদী ছিলাম। যার কারণে শাসকশ্রেণির অনেক ষড়যন্ত্র আমরা রুখে দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, আজ যারা অনেকেই টাকার বিনিময়ে সরকার-সেনাবাহিনীর পকেটে ঢুকে শান্ত পাহাড়কে অশান্ত করে রক্তাক্ত করছে, তারা যদি নিজের বিবেককে পরিবর্তন করতে না পারে তাহলে বিপদে পড়বে।

চলমার ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধ হওয়া জরুরি মন্তব্য করে তিনি বলেন, আজ আমরা এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। এর থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাাদেরকে সংঘাত বন্ধ করে সবাইকে আন্দোলনে সামিল হতে হবে।

আইসুক ত্রিপুরা বলেন, আপোষ চুক্তির বিষয়ে সমালোচনা করেছিলেন প্রদীপ লাল চাকমা। তার আগে ধুধুক ছড়ায় সন্তু লারমা বলেন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের আন্দোলনের বিষয়ে বলেন, ‘গুলতি মেরে স্বায়ত্তশাসন অর্জন হয় না’ তখনই প্রদীপ লাল চাকমা প্রশ্ন করে বলেছিলেন তাহলে কি করে স্বায়ত্তশাসন অর্জন হবে? এসব কারণেই সন্তু লারমা প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে কৌশলে সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে প্রদীপ লাল ও কুসুমপ্রিয় চাকমাকে হত্যা করেছে।  

তিনি আরো বলেন, সন্তু লারমা সেনাবাহিনীর সাথে ৪৩ পৃষ্ঠার গোপন চুক্তির মাধ্যমে জেল থেকে বের হওয়ার কারণেই সরকার এবং সেনাবাহিনী কাছে লেজুড়গিরি করতে বাধ্য হচ্ছেন এবং শাসকগোষ্ঠির ক্রীড়নক হয়ে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত জিইয়ে রেখেছেন। তিনি সন্তুচক্রের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সজাগ ও সতর্ক থাকার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

বরুন চাকমা বলেন, আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল অন্যায়-অবিচার, ভূমি বেদখল ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে যাচ্ছি। যার কারণে সরকারও সেনাবাহিনী আমাদের বিরুদ্ধে সন্তু গ্রুপ ও নব্যমুখোশদের লেলিয়ে দিয়েছে। তিনি সমস্ত বাধা বিপত্তি, জেল-জুলম, মামলা-হামলা মোকাবিলা করে অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তৃষ্ণাঙ্কর চাকমা বলেন, চলমান সংঘাত বিষয়ে সবাইকে মূল্যায়ন করতে হবে। এখানে কারা সঠিক লাইনে রয়েছে, আর কারা সেনাবাহিনী ও শাসকগোষ্ঠির সাথে থেকে সংঘাত জিইয়ে রেখেছে সেটা জনগণকে বুঝতে হবে। তিনি সবাইকে সংঘাতের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮ টায় পূজগাং মুখ উচ্চবিদ্যালয়ে কুসুমপ্রিয় ও প্রদীপ লাল চাকমার স্মরণে নির্মিত স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পিসিপি ও যুব ফোরামের সদস্যরা।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More