বিনাবিচারে ৮৬০ দিন ধরে কারাবন্দী মুনথাং বম ভুগছেন শারীরিক অসুস্থতায়

0

অনলাইন ডেস্ক, সিএইচটি নিউজ
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

একসময় প্রথম আলোর ভ্রমণ ডায়েরিতে “পর্যটকদের পথ চেনান এই তরুণ” শিরোনামে উঠে এসেছিলেন মুনথাং বম। জুম চাষের পাশাপাশি তিনি পর্যটকদের পাহাড়ে পথ দেখিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রাণবন্ত, রসিক ও অতিথিপরায়ণ মুনথাংয়ের সঙ্গে যারা একবার পাহাড়ে গিয়েছেন, তারা জানেন তিনি কতটা অসাধারণ একজন।

একজন ভ্রমণকারী তাঁর স্মৃতিচারণায় লিখেছেন, মুনথাং ছিলেন সমতলের পাহাড়প্রেমী মানুষের কাছে আত্মীয়ের মতো। তাঁর জীবনের গল্পও একসময় পত্রিকার পাতায় স্থান পেয়েছিল। অথচ সেই মানুষটিই আজ বহু মাস (৮৬০ দিন) ধরে চট্টগ্রাম কারাগারে বন্দী।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, কারাগারে মুনথাংয়ের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। তিনি জ্বর, কাশি ও গলা ব্যথায় ভুগছেন এবং তাঁর গলা অনেকটা ফুলে গেছে। প্রয়োজনীয় ওষুধও পরিবারকে বাইরে থেকে কিনে দিতে হচ্ছে। অথচ তাঁর পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র—দিন আনে দিন খায়। আইনজীবীর খরচ, অন্যান্য আইনি ব্যয় এবং চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব।

পরিবারের অসহায় প্রশ্ন—“উকিলের টাকা আমরা কোথায় পাব?”

২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল রুমার বেথেলপাড়া থেকে আরও ৪৯ জন গ্রামবাসীর সঙ্গে মুনথাং বম গ্রেপ্তার হন বলে পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি কারাগারে বন্দী রয়েছেন। একই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অনেকেই আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামিন পেয়েছেন বলে জানা যায়; কিন্তু মুনথাং এখনো মুক্তি পাননি।

স্থানীয়রা বলছেন, “একজন অসুস্থ মানুষকে দীর্ঘদিন বিচারিক প্রক্রিয়ার অনিশ্চয়তার মধ্যে কারাগারে রেখে দেওয়া এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা নিশ্চিত না করা গভীর মানবিক উদ্বেগের বিষয়। বিচার পাওয়ার অধিকার, ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং কারাবন্দীর চিকিৎসার অধিকার—এসব কোনোভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়।

“মুনথাং বমের পরিবারের আর্থিক অসহায়ত্ব তাঁর চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা পাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন মানুষ রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর জীবন ও স্বাস্থ্য রক্ষার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায়। চিকিৎসার অভাবে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তার দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

“এখন আর শুধু আশ্বাস নয়—প্রশাসনকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মুনথাং বমের চিকিৎসা, তাঁর মামলার অগ্রগতি এবং দীর্ঘদিনের বন্দিত্বের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জনসমক্ষে জবাবদিহি করতে হবে। কোনো বন্দীর অসুস্থতা ও অসহায়ত্বকে প্রশাসনিক নীরবতার আড়ালে চাপা দেওয়া চলবে না।

এলাকাবাসী দাবি জানয়ে স্পষ্টভাবে বলেছেন, মুনথাং বমের জীবন ও চিকিৎসা নিয়ে কোনো গাফিলতি হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। তাঁর শারীরিক অবস্থার জরুরি ও স্বাধীন চিকিৎসা মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আর এক মুহূর্তের বিলম্বও কাম্য নয়।

*তথ্যসূত্র: Bawm Lives Matter ফেসবুক পেইজ।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More