খাগড়াছড়িতে শহীদ মিঠুন চাকমার ৮ম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শনিবার, ৩ জানুয়ারি ২০২৬
ইউপিডিএফ সংগঠক ও সাবেক পিসিপি সভাপতি শহীদ মিঠুন চাকমার ৮ম মৃত্যুবার্ষিকীতে খাগড়াছড়িতে স্মরণসভা করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) খাগড়াছড়ি জেলা শাখা।
আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে “শোক হোক শক্তি, লড়াইয়ে মুক্তি, আসুন শত শহীদের আত্মত্যাগের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন আন্দোলন জোরদার করি” এই শ্লোগানে আয়োজিত স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন, ইউপিডিএফের খাগড়াছড়ি ইউনিয়নের সংগঠক লালন চাকমা, পিসিপি’র খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তৃষ্ণাঙ্কর চাকমা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের খাগড়াছড়ি জেলা আহ্বায়ক এন্টি চাকমা। সভা সঞ্চালনা করেন পিসিপি’র খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সদস্য রাজু ত্রিপুরা।
স্মরণসভা শুরুর পূর্বে শহীদ মিঠুন চাকমার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও পরে দাঁড়িয়ে ১মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, ২০১৮ সালে ৩ জানুয়ারি মিঠুন চাকমাকে প্রকাশ্য দিবালোকে সেনা-সৃষ্ট ঠ্যাঙারে বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের ৮ বছরেও হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার হয়নি। যারা মিঠুন চাকমাকে হত্যা করেছে তারা সেনাবাহিনীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকার কারণে তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না বলে বক্তারা অভিযোগ করেন।
বক্তারা আরো বলেন, মিঠুন চাকমার খুনিরা গ্রেফতার না হওয়ায় তারা একই বছর ১৮ আগস্ট স্বনির্ভর বাজারে প্রকাশ্যে পুলিশেরে সামনে ব্রাশফায়ার করে তপন-এল্টন-পলাশসহ ৭ জনকে হত্যা করেছে।
বক্তারা মিঠুন চাকমাকে স্মরণ করে বলেন, তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের এক অন্যন্য উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা শেষে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার সুযোগ পেয়েও তিনি তা লুফে নেননি। ব্যক্তি স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে নিপীড়িত-নির্যাতিত জনমানুষের অধিকারের জন্য কাজ করে ছিলেন। তিনি আমৃত্যু পর্যন্ত আপোষহীন সংগ্রামে অবিচল থেকে জুম্ম জনগণের অধিকার আদায়ের কাজ করে গেছেন। ঘাতকরা মিঠুন চাকমাকে হত্যা করলেও তার আর্দশ হত্যা করতে পারেনি।
স্মরণসভা থেকে বক্তারা মিঠুন চাকমা হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
