দীঘিনালায় সেনাবাহিনী কর্তৃক দুই ইউপিডিএফ সদস্য ও এক যুবককে অমানুষিক নির্যাতন

0
নির্যাতনের শিকার হওয়া তিন জন। বাম থেকে রিকন চাকমা, পিউশন চাকমা ও রুবেল চাকমা। 

দীঘিনালা প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ইউপিডএফের দুই সদস্য ও স্থানীয় এক যুবকের ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা হলেন- ১. পিউশন চাকমা (২৮), পিতা: অমর ধন চাকমা, গ্রাম: আলামডিপো (লক্ষিছড়ি), ৪নং ওয়ার্ড, সাজেক ইউনিয়ন, বাঘাইছড়ি, রাঙামাটি ও ২. রুবেল চাকমা (৩২), পিতা: মৃত মুরতি রঞ্জন চাকমা, গ্রাম: ইন্দ্রমনি পাড়া, দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি ও ৩. রিকন চাকমা (২৯), পিতা: মৃত জ্ঞান রতন চাকমা, গ্রাম ইন্দ্র মনি কার্বারি পাড়া, দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি।

এদের মধ্যে পিউশন চাকমা ও রুবেল চাকমা ইউপিডিএফের সদস্য এবং রিকন চাকমা স্থানীয় গ্রামের যুবক।   

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) দিবাগত মধ্যরাত আনুমানিক ১:০০টার সময় দীঘিনালার বড়াদাম সেনাক্যাম্প থেকে ২০ জনের একটি সেনাদল রিপন চাকমা নামে এক ঠ্যাঙাড়ে দুর্বৃত্তকে সাথে নিয়ে ইন্দ্রমনি পাড়ায় হানা দেয়। এ সময় সেনারা গ্রামের এক বাসিন্দার বাড়ি ঘেরাও করে সেখানে রাতযাপনের জন্য অবস্থান করা ইউপিডিএফ সদস্য পিউশন চাকমা ও রুবেল চাকমাকে এবং স্থানীয় যুবক রিকন চাকমাকে আটক করে।

এরপর সেনা সদস্যরা নানা জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের ওপর অমানুষিকভাবে শারীরিক নির্যাতন চালায়। নির্যাতনে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়।

নির্যাতনের শিকার ইউপিডিএফ সদস্য রুবেল চাকমা কিডনি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।

নির্যাতন শেষে সেনারা তাদেরকে ছেড়ে দিয়ে সেখান থেকে ক্যাম্পে ফিরে যায়।

রাতের আঁধারে সেনাদের এমন আক্রমণ ও নির্যাতনের ফলে গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ঠ্যাঙাড়ে দুর্বৃত্তদের সাথে নিয়ে সেনাদের এমন নির্মমতায় এলাকাবাসী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ ও নিন্দা জানিয়েছেন।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More