পার্বত্য চট্টগ্রামকে “জেলা উন্নীতকরণ” দিবসে মানিকছড়িতে আলোচনা সভা

0
151

মানিকছড়ি প্রতিনিধি ।। পার্বত্য চট্টগ্রামকে ”জেলা উন্নীতকরণ” দিবসে ‘ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের (১৮৬০-১৯৪৭) ক্ষয়ক্ষতি : আমাদের উপলব্ধি ও শিক্ষা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ ১ আগস্ট ২০২১, রবিবার ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস অনুসন্ধান ব্যুরো’ এর ব্যানারে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের মানিকছড়ি উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক অংসাহ্লা মারমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ইউপিডিএফের মানিকছড়ি ইউনিটের সমন্বয়ক ক্যহ্লাচিং মারমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অমল ত্রিপুরা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা সাধারণ সম্পাদক নিকেল চাকমা, মানিকছড়ি উপজেলা পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি অংহ্লাচিং মারমা।

আলোচনা শুরুতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় ।

বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম এক সময় স্বাধীন রাজ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু ১৮৬০ সালের ১ আগস্ট ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকরা আইন জারি করে এই স্বাধীন রাজ্যকে জেলায় উন্নীত করে তার স্বাধীন সত্তা কেড়ে নিয়ে নিজেদের শাসন-শোষণ কায়েম করে। একটি স্বাধীন রাজ্যকে জেলায় উন্নীতকরণের নামে তারা যা করেছিল কার্যত তা পাহাড়ি জনগণের সাথে প্রতারণা ছাড়া কিছুই ছিল না। তবে ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসকদের অন্যায় শাসন-শোষণ মেনে নেয়নি তৎসময়ের পার্বত্য রাজ্যের রাজারা। তৎকালীন রাজা শের দৌলত খাঁ, সেনাপতি রুণু খাঁ, যুবরাজ জান বক্স খাঁসহ আরও ক’জন ব্রিটিশ শাসকদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে বীরদের্পে প্রতিরোধ সংগ্রাম করে গেছেন। রাণী কালিন্দিও নিজ শাসন কার্যে ঔপনিবেশিক শাসকদের অন্যায় হস্তক্ষেপ ও খবরদারি মেনে নেননি। তাদের সেই সংগ্রাম থেকে আমাদের নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা নিতে হবে।

বক্তারা আরো বলেন, ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্রের জন্ম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামকে মুসলিম অধ্যষিত পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে অন্যায় শাসন-শোষণের মাত্রা আরো তীব্রতা লাভ করে। পাকিস্তানের আগ্রাসনের শিকার হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম। পরববর্তীতে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগণ নিপীড়ন ও শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্ত হতে পারেনি।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে একের পর এক সরকারের বিভিন্ন পালাবদল ঘটলেও এদেশের শাসকরা পার্বত্য চট্টগ্রামে একই দমন নীতি বজায় রেখে অন্যায় শোষণ-নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসে দমন-পীড়নের মাত্রা আরো বেড়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের উপর এই যে অন্যায় দমন-পীড়ন তা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তাই অতীতের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে পাহাড়ি জাতিসত্তার অস্তিত্ব রক্ষায় আপোষহীনভাবে লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য বক্তারা নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান।


সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.