বৈসাবি উৎসব বর্জন কর্মসূচিকে বানচাল করতে পানখাইয়া পাড়ায় পুলিশি অভিযানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউপিডিএফ

0
11

ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)-এর খাগড়াছড়ি জেলা সমন্বয়ক উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমা এক বিবৃতিতে জনগণের বৈসাবি উৎসব বর্জন কর্মসূচিকে বানচাল করে দেয়ার লক্ষে গত ১০এপ্রিল রাতে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের পানখাইয়া পাড়ায় পুলিশি অভিযানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন
বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাজেক ও খাগড়াছড়িতে পাহাড়িদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলার পর পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগণ স্বতঃস্ফুর্তভাবে বৈসাবি উৎসব বর্জন কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানায় পানখাইয়া পাড়াবাসীও এই কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়ে বৈসাবি উৎসবের সকল আনুষ্ঠানিকতা বর্জনের ঘোষণা দেয় কিন্তু জেলা প্রশাসন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বাঁশরী মারমা ও আওয়ামী লীগের ক্যজরী মারমা সহ কয়েকজন দালাল-বদমায়েশকে দিয়ে বৈসাবি উৎসব পালনে তৎপর হয়ে উঠেছে পানখাইয়া পাড়া ও সাতভাইয়া পাড়া এলাকাবাসী বার বার তাদের বৈসাবি উৎসব পালনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে গত রাত (১০ এপিল ২০১০) আনুমানিক ১০টার সময় খাগড়াছড়ি জেলা সদরের পানখাইয়া পাড়ায় পুলিশ দিয়ে অভিযান চালিয়ে স্থানীয় যুবকদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হয় শুধু তাই নয় পুলিশ পানখাইয়া পাড়ার বিশিষ্ট মুরুব্বী কিরণ মারমার বাড়ি সহ বেশ কয়েকজনের বাড়িও ঘেরাও করে এক আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে
বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, জেলা প্রশাসক মো: আবদুল্লাহ সকল প্রচেষ্টা চালিয়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে ব্যর্থ হয়ে এখন ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও লোভ-প্রলোভন দেখিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মাঝেও জনগণকে উৎসবে সামিল করতে বাধ্য করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন কিছু চিহ্নিত সমাজ বিরোধী চক্রকে জুটিয়ে ক্ষুব্ধ বেদনাহত জনগণের সাথে নিষ্ঠুর রঙ্গ করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছেন জেলা প্রশাসক মো: আবদুল্লাহ গত ৬ এপ্রিল খাগড়াছড়িতে তার নির্দেশে পুলিশ বৈসাবি উৎসব বর্জনের পোস্টার ছিড়ে দিয়েছে পরদিনও একই পোস্টার ছিড়ে দেয় তাতেও ক্ষান্ত না হয়ে তিনি উৎসব বর্জনের আহ্বানকারী ১৫টি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে তার কার্যালয়ে দেখা করার নির্দেশ দেন উদ্দেশ্য ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে উৎসবে সামিল করানো
বিবৃতিতে তিনি বলেন, আবদুল্লাহ সাহেব পোস্টার ছিড়ে দেয়ার মত চরম অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিস্ট কার্যকলাপের পাশাপাশি নাম সর্বস্ব কিছু দালাল সংগঠন দিয়ে বৈসাবি র‌্যালী আয়োজনের চেষ্টা চালাচ্ছেন খাগড়াছড়ির সর্বস্তরের জনগণ ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে একাত্ম হয়ে বৈসাবি উৎসব বর্জন কর্মসূচির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন কারণ জনগণ সাজেক ও খাগড়াছড়ির হামলায় ক্ষুব্ধ তারা জানেন বৈসাবি চেতনা হল ঐক্র, সংহতি ও ভ্রাতৃত্ব তারা এই ঐক্য, সংহতি ও ভ্রাতৃত্বের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এই বছরের বৈসাবিকে সাজেক ও খাগড়াছড়িতে হামলার শিকার হাজার হাজার অসহায় দুঃখী ভাইবোনদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করবেন
বিবৃতিতে তিনি খাগড়াছড়ি জেলার সর্বস্তরের জনগণের প্রতি জেলা প্রশাসনের বৈসাবি বর্জন কর্মসূচি বানচালেরর ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার মাধ্যমে বৈসাবি উৎসবের সকল আনুষ্ঠানিকতা বর্জন করে সরকারের অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.