মাটিরাঙ্গায় সেনাবাহিনী কর্তৃক দুই গ্রামবাসীকে আটক, পরে ৫০ হাজার টাকায় থানা থেকে একজনের মুক্তি

0


মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার সাদিয়াবাড়ি এলাকায় গত শুক্রবার (২১ আগস্ট ২০২৬) ভোরে সেনাবাহিনী কর্তৃক দুই ব্যক্তির বাড়ি তল্লাশির পর তাদেরকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে থানা থেকে একজন মুক্তি পান বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীরা হলেন- বজেন্দ্র ত্রিপুরা (৫০), পিতা: অমর কৃষ্ণ ত্রিপুরা, গ্রাম সাদিয়া বাড়ি, ৮ নং ওয়ার্ড, ৬নং মাটিরাঙ্গা ইউনিয়ন ও তার জামাই লক্ষী কুমার ত্রিপুরা (২৬), পিতা: ভক্ত কুমার ত্রিপুরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোর ৪ টার সময় শিশকবাড়ি সেনা ক্যাম্প থেকে ২০ থেকে ২৫ জন সেনা সদস্য সাদিয়াবাড়ি গ্রামে গিয়ে বজেন্দ্র ত্রিপুরা ও তার জামাই লক্ষী কুমার ত্রিপুরার বাড়িতে তল্লাশি চালায়।

পরে সেনারা তাদেরকে আটক করে মাটিরাঙ্গা সেনাজোনে নিয়ে যায়। এরপর ঐদিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার সময় তাদেরকে মাটিরাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

পরবর্তীতে থানা কর্তৃপক্ষ ও ঠ্যাঙাড়ে সদস্য সজল মিলে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে লক্ষী কুমার ত্রিপুরাকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়। তবে তার শ্বশুর বজেন্দ্র ত্রিপুরাকে পুলিশ ‘গাঁজা’ গুজে দিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে।

এদিকে, খোঁজ নিয়ে বজেন্দ্র ত্রিপুরার ওপর আগেও নানা নিপীড়ন-হয়রানির তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে ২০২৪ সালের ১৭ মার্চ বজেন্দ্র ত্রিপুরা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে মিথ্যা অস্ত্র মামলায় কারাভোগ করেছিলেন। পরে তিনি আদালত থেকে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পান। উক্ত মামলায় খাগড়াছড়ি আদালতে হাজিরা দিতে গেলে গত ৫ জুলাই ২০২৬, আদালতের সামনে থেকে দুইজন ঠ্যাঙাড়ে দুর্বৃত্ত তাকে অপরণের চেষ্টা চালায় এবং তার মোটর সাইকেলটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

এ ঘটনার বিষয়ে পরের দিন (৬ জুলাই ২০২৬) বজেন্দ্র ত্রিপুরা মাটিরাঙ্গা সদরে অবস্থিত ঠ্যাঙাড়েদের অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করলে তারা তার কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে আলাপ-আলোচনা করে তাদেরকে তিনি ৩০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন।

এসব নিপীড়ন-হয়রানির পরও সর্বশেষ তাকে আবার আটকের শিকার হয়ে কারাগারে যেতে হলো।

স্থানীয়রা বজেন্দ্র ত্রিপুরার ওপর বার বার এ ধরনের অন্যায়-অবিচার মেনে নিতে পারছেন না। তারা বলছেন, একজন মানুষের ওপর এমন অমানবিক আচরণ কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা অবিলম্বে বজেন্দ্র ত্রিপুরার মুক্তি দাবি করেছেন।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More