রুমায় অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ১৩ জন ত্রিপুরা গ্রামবাসীকে আটক

0
সংগৃহিত ছবি

রুমা (বান্দরবান), সিএইচটি নিউজ
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম গ্যালেঙ্গা ইউনিয়নের জৈতুন পাড়া এলাকায় মাটির নিচে পুঁতে রাখা এক অজ্ঞাত বাঙালি ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় যুবকসহ ১৩ জন ত্রিপুরা গ্রামবাসীকে আটক করেছে বিজিবি। 

গতকাল মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) সকালে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে জৈতুন পাড়া সংলগ্ন একটি জঙ্গল এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে বিজিবি ও পুলিশ। এর পরপরই উক্ত আটকের ঘটনাটি ঘটে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জৈতুন পাড়ার জঙ্গলের একটি বাগানে কাজ করতে গেলে সেখানে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দিলে বলি পাড়া ক্যাম্পের বিজিবি ও রুমা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।  

উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি বান্দরবান সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

প্রাথমিকভাবে মরদেহটির মাথায় গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে জানিয়ে পুলিশ বলছে, ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও মরদেহের পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে, মরদেহ উদ্ধারের পরপরই সন্দেহভাজন হিসেবে জৈতুন পাড়া এলাকার ১৩ জন ত্রিপুরা গ্রামবাসীকে আটক করেছে বিজিবি।

আটককৃতদের নাম জানা গেছে। এরা হলেন- অনিল ত্রিপুরা (৩৮), বিবিমন ত্রিপুরা (২০), ইন্দ্রিয়া ত্রিপুরা (২২), ছুন চন্দ্র ত্রিপুরা (৩৫), লাফিয়া ত্রিপুরা (৪৮), সতিজন ত্রিপুরা (২৮), ভাগ্যরাম ত্রিপুরা (৩৩), প্রদীপ ত্রিপুরা (৩২), অলন্দ্রিং ত্রিপুরা (২৯), লিও ত্রিপুরা (৩৫), সাজালং ত্রিপুরা (২০), জন ত্রিপুরা (২৭) এবং শ্রীমন ত্রিপুরা (৬৬)। আটককৃত সবাই জৈতুন পাড়া এলাকার বাসিন্দা।

সংগৃহিত ছবি

রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া জানান, গ্যালেঙ্গা ইউনিয়নের জৈতুন পাড়া এলাকার জঙ্গল থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ১৩ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

তিনি আরও জানান, নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য জানানো হবে। রুমা থানায় এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More