লোগাঙ গণহত্যার স্মরণে মানিকছড়িতে স্মরণ সভা

0


মানিকছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ লোগাঙ গণহত্যার স্মরণে খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে স্মরণ সভা করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) মানিকছড়ি উপজেলা শাখা।

আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল ২০২৬) লোগাঙ গণহত্যার ৩৪তম বার্ষিকীতে আয়োজিত স্মরণ সভা শুরুতে পানছড়ির লোগাঙ গণহত্যায় নিহত ও পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণ করে ২ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামকে বধ্যভূমি বানানোর ষড়যন্ত্র রুখে দিতে এক হোন” শ্লোগানে আয়োজিত স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন পিসিপি’র মানিকছড়ি উপজেলা সভাপতি আনু মারমা।

সুমনা মারমার সঞ্চালায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ইউপিডিএফের মানিকছড়ি ইউনিটের সমন্বয়ক ক্যহ্লাচিং মারমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বরুণ চাকমা, পিসিপি’র কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক অংহ্লাচিং মারমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের মানিকছড়ি উপজেলা সভাপতি অংচাই রোয়াজা, এলাকার প্রতিনিধি বাবু মারমা ও সাচিংপ্রু মারমা।


বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্মরণকালের ভয়াবহ লোগাঙ গণহত্যার ৩৪ বছরেও কোন বিচার হয়নি। পাহাড়িদের নিশ্চিহ্ন করে দিতে এ যাবত ডজনেরও অধিক গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, কোন ঘটনারই বিচার করা হয়নি।

তারা বলেন, ১৯৮০ দশকে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেটেলার পূনর্বাসন পর থেকে ভূমি বেদখল, নারী ধর্ষণ, গণহত্যা বারবার সংঘটিত হয়ে আসছে। ১৯৯২ সালে আজকের এই দিনে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের বৈ-সা-বি উৎসবের মাত্র দু’দিন আগে লোগাঙ গণহত্যা সংঘটিত করা হয়েছিল। যার উদ্দেশ্য ছিল পাহাড়িদের উচ্ছেদ করে জায়গা-জমি জবরদখল করা। দেশের একের পর এক সরকার পরিবর্তন হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে বিচারহীনতার সংস্কৃতি জারি রাখা হয়েছে। যার কারণে বার বার পাহাড়িদের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২০২৪ সালে দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি সদর ও রাঙামাটিতে এবং ২০২৫ সালে গুইমারায় পাহাড়িদের ওপর ভয়াবহ হামলা ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হয়েছে।  


বক্তারা শাসকগোষ্ঠির অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে ছাত্র-যুব-নারী সমাজসহ সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান।

স্মরণ সভা থেকে বক্তারা সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, লোগাঙ গণহত্যাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে এ যাবত যতগুলো গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে সকল গণহত্যার শ্বেতপত্র প্রকাশপূর্বক সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থানীয় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সেনাশাসন প্রত্যাহারপূর্বক গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি ও পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রদান করতে হবে।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More