টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়িতে জনজীবন বিপর্যস্ত, বিভিন্ন সড়ক তলিয়ে যান চলাচল বন্ধ

0
সংগৃহিত ছবি

খাগড়াছড়ি, সিএইচটি নিউজ
বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়িতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি ঢল ও নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় জেলার একাধিক সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সরাসরি যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে দীঘিনালা-লংগদু, দীঘিনালা-সাজেক ও খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে।

বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে দীঘিনালা-লংগদু সড়কের বিভিন্ন অংশ পানি উঠেছে। স্টিল ব্রিজ, বড় মেরুং, আটারকছড়া ও তেঁতুলতলা এলাকায় সড়কে পানি উঠেছে। ফলে সোমবার বিকেল থেকে দীঘিনালা-লংগদু সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

আজ বুধবার (৮ জুলাই) সকালে দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কবাখালী অংশেও পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। কোথাও কোথাও যাত্রীদের নৌকা দিয়ে সড়ক পার হতে দেখা গেছে।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কের মহালছড়ি উপজেলার চব্বিশ মাইল, মাইসছড়ি ও কেরেঙ্গেনালা এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় ওই সড়কেও সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

মাইসছড়ি এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে আছে। এই পানি দিয়েই সাধারণ যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের চলাচল করতে হচ্ছে। সেচের নালার স্লুইসগেট বন্ধ থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে না পারায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

বৃষ্টিতে জেলার চেঙ্গী ও মাইনী নদীসহ বিভিন্ন খাল-ছড়ার পানি দ্রুত বাড়ছে। জেলা সদর, মহালছড়ি ও দীঘিনালার বিভিন্ন নিচু এলাকায় এরইমধ্যে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। অনেক পরিবারকে গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে দেখা গেছে।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন জরুরি প্রস্তুতি নিয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপজেলায় ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে মেরুং এলাকার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে সোমবার রাতে ২৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তাদের খাবার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের বেলুন মেকার সুভূতি চাকমা বলেন, বেলা ১১টা পর্যন্ত আগের ১৮ ঘণ্টায় ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। মহালছড়ি-গুইমারা সড়কের সিন্দুকছড়ি এলাকায় ছোট আকারের পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।

জেলা প্রশাসন পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অনুরোধ করেছেন।

জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, জেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় মোট ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

* তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার বাংলা



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More