সাজেকে ৩য় দফায় সড়ক অবরোধ চলছে

0


সাজেক প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

তিন দফা দাবি বা শর্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় রাঙামাটির সাজেক পর্যটন সড়কে ৩য় দফায় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন।

আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) সকালে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু করা হয়।

এদিকে অবরোধ বানচাল করে দিতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা রাস্তায় অবস্থান নিয়েছে। তারা উজোবাজার এলাকায় অবস্থান নিয়ে মাইকিং করে লোকজনকে দোকান না খুলতে ও রাস্তায় না নামার জন্য নির্দেশ দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১১ ও ১৫ অক্টোবর দু’ দফায় তারা অবরোধ পালন করেছে।

প্রথম দফার অবরোধের দিন (১১ অক্টোবর) বিকালে স্থানীয় সামরিক-বেসামরিক প্রশাসন দুই সংগঠন ও সাজেকবাসীর উত্থাপিত তিন দফা দাবি বা শর্ত মেনে নিলে ৪৮ ঘন্টার জন্য সড়ক অবরোধ স্থগিত করা হয়। এরপর শর্ত পূরণ না হওয়ায় ১৫ অক্টোবর আবার তারা অবরোধ পালন করে। পরে শারদীয় দুর্গোৎসবের কারণে ১৬ -২১ অক্টেবর অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।

তাদের তিন দফা দাবি বা শর্তগুলো হচ্ছে- ১. ৪৮ ঘন্টা সময়ের মধ্যে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নিতে হবে, ২. জেএসএসের সদস্যরা কাউকে মৃত্যুর হুমকি দেবে না ও ৩. সেনা প্রশাসন কর্তৃক সাধারণ নিরীহ জনগণের ঘর-বাড়ি তল্লাশি ও হয়রানি করা যাবে না।

প্রশাসন উক্ত দাবি বা শর্তগুলো বাস্তবায়ন না করায় গতকাল দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে বাবুধন চাকমা ও নতুন জয় চাকমা এক যৌথ বিবৃতিতে আজ (২২ অক্টোবর) থেকে পুনরায় অবরোধ পালনের ঘোষণা দেন।

তারা অভিযোগ করেন, জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যরা এখনো আগের অবস্থানগুলোতেই রয়েছেন। তাদের সশস্ত্র গ্রুপের কোম্পানি কমান্ডার চিনু মারমা ও সাইমন চাকমার নেতৃত্বে সাজেকের মাচলঙ এলাকার থালকুম্ভো, চিল্ল্যাতুলি কুটির, নোয়াপাড়া, লাম্বাবাক ও ভুয়োছড়ি এলাকায় প্রকাশ্যে সশস্ত্র তৎপরতা চালাচ্ছে। শতাধিক সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর হুমকি ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে ঘরছাড়া করেছে। গ্রামবাসীদের ব্যবহৃত মুঠোফোন কেড়ে নিয়েছে। সাধারণ জুমচাষীরা ভয়ে জুমে হলুদ ও ঝাড়ুফুলের বাগান পরিষ্কার করার কাজে যেতে পারছেন না। সেনাবাহিনী লোকদেখানো অভিযান চালালেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো সেনাবাহিনী অভিযানের নামে যারা জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে তাদেরকে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তারা আরো বলেছেন, এলাকার জনগণের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার্থে এবং জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সন্ত্রাস ও উৎপাত বন্ধ করার জন্য তাদেরকে উক্ত এলাকা থেকে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।

বিবৃতিতে তারা সাজেক পর্যটনে যারা ভ্রমণে রয়েছেন তাদেরকে আজকের মধ্যে সাজেক পর্যটন ত্যাগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

অবরোধ চলাকালে জরুরী ফায়ার সার্ভিস, এ্যাম্বুলেন্স ও শববাহী গাড়ি, জরুরী ঔষধ সরবরাহকারী ও সংবাদপত্র বহনকারী যান, সংবাদ সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত সাংবাদিকদের গাড়ি এই অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে বলে নেতৃদ্বয় বিবৃতিতে উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, দুই সংগঠন সড়ক অবরোধ ঘোষণা দেওয়ার পর পরই গতকাল রাতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাময়িককালের জন্য সাজেক পর্যটন বন্ধ ঘোষণা করা হয়।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More