তপন, এল্টন, পলাশ চাকমাদের স্মরণে লক্ষীছড়িতে প্রদীপ প্রজ্বলন করেছে পিসিপি

0

লক্ষীছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

খাগড়াছড়ির স্বনির্ভর হত্যাকাণ্ডে শহীদ তপন, এলটন, পলাশ চাকমাসহ নিহত ৭ জনের স্মরণে লক্ষীছড়িতে “প্রদীপ প্রজ্বলন” করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), লক্ষীছড়ি উপজেলা শাখা।

আজ মঙ্গলবার (১৮ আগষ্ট ২০২৬) সন্ধা ৭টার সময় লক্ষীছড়ি উপজেলার হুদুকছড়ি বাজারে এই প্রদীপ প্রজ্বলন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে এলাকার ছাত্র-যুবক ও সাধারণ জনতা ও অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে রূপায়ন চাকমার সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন পিসিপি’র কেন্দ্রীয় সম্পাদক সম্পাদক অনিমেষ চাকমা।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের ১৮ আগস্ট স্বনির্ভর হত্যাকাণ্ড ছিল শাসকগোষ্ঠীর একটি পূর্ব পরিকল্পিত ঘটনা। পার্বত্য চট্টগ্রামে ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন দমাতে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা শাসক ও তার বাহিনীরা এই নীলনকশা তৈরি করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর কর্তৃক পরিচালিত ঠ্যাঙাড়ে সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে তৎকালীন খাগড়াছড়ি ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ-এর পরিকল্পনায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে। এই ঘটনায় পিসিপি’র নেতা তপন চাকমা ও এলটন চাকমা এবং যুব নেতা পলাশ চাকমাসহ ৭ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে সেনাবাহিনীর লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরা।

অনিমেষ চাকমা অভিযোগ করে আরও বলেন, স্বনির্ভর হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্ত্রাসীরা এখনো পর্যন্ত সেনাবাহিনীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকে নানা অপরাধকর্ম সংঘটিত করে যাচ্ছে। সরকার পরিবর্তন হয়েছে ঠিকই কিন্তু আইনের শাসন এখনো সেই হাসিনা আমলের মতোই রয়ে গেছে। ফলে স্বনির্ভর হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত খুনিদের গ্রেফতার ও বিচার আজও হয়নি। উপরন্তু উক্ত হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদকে প্রমোশন দিয়ে আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বনির্ভর হত্যাকাণ্ড চালিয়ে ন্যায্য আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হলেও মাধ্যমে পিসিপিসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতা-কর্মীদের আন্দোলন থেকে বিচ্যুত করা যায়নি। বরং ইউপিডিএফের নেতৃত্বে পূর্নস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন আরো জোরদার হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে সংগঠনের নির্ভীক সহযোদ্ধারা রাজপথে অবিচল রয়েছে।

অনিমেষ চাকমা স্বনির্ভর হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ-সহ জড়িত সকল খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতারপূর্বক বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More