পাহাড়ে সন্ত্রাসী গডফাদার খুনিদের শান্তি উদ্যোগকে লোক ঠকানোর তামাশা আখ্যা দিয়েছে তিন গণতান্ত্রিক সংগঠন

0

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

পাহাড়ে ভূমি বেদখল, হত্যাকাণ্ড ও বহু অনিয়ম-দুর্নীতির দায়ে জেল-খাটা এক বিতর্কিত ব্যক্তি ওয়াদুদ ভূঁইয়া (বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি) কর্তৃক পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠায় চলতি মাসে আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যানের সাথে বৈঠকের ঘোষণাকে “সন্ত্রাসী গডফাডার খুনিদের শান্তি উদ্যোগকে লোক ঠকানোর তামাশা” আখ্যা দিয়ে এতে উদ্বেগ প্রকাশ করে নিন্দা জানিয়েছে পাহাড়ের তিন গণতান্ত্রিক সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম।

আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সমর চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নীতি চাকমা ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সভাপতি জিকো ত্রিপুরা সংবাদ মাধ্যমে দেয়া এক যৌথ বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই নিন্দা জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাত, সহিংসতা, ভূমি বেদখল, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও জাতিগত নিপীড়নের অবসান ঘটিয়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা এ অঞ্চলে প্রতিটি মানুষের আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু শান্তির কথা বললেই শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় না; শান্তির বুলি আওড়ালেই অন্যায়, সহিংসতা ও নিপীড়নের দায় মুছে যায় না। যারা সংঘাতের পরিবেশ সৃষ্টি, সহিংসতার পৃষ্ঠপোষকতা কিংবা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিভিন্নভাবে জড়িত তাদের প্রকৃত ভূমিকা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না করে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালানো পাহাড়ি জনগণের সঙ্গে তামাশা করা ছাড়া আর কিছুই নয়।

তারা আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা দেশের একটি জাতীয় রাজনৈতিক সমস্যা। এ সমস্যার রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সমাধান নিশ্চিত না করে কেবল শান্তির বুলি প্রচার কিংবা লোকদেখানো উদ্যোগের মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। বরং শান্তির নামে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রকৃত রাজনৈতিক সমস্যাকে আড়াল করে এবং নিপীড়িত পাহাড়ি জনগণের ‘পূর্ণস্বায়ত্তশাসন’র ন্যায্য দাবিকে উপেক্ষা করে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা ও সংকটকে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের অংশে পরিণত করে দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে অঘোষিত সেনাশাসন জিইয়ে রেখে শান্তির প্রচেষ্টা প্রহসন উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, ওয়াদুদ ভূঁইয়ার কথিত শান্তির বৈঠক মূলত পাহাড়িদের ওপর বিএনপি সরকারের দমন-পীড়ন নীতি বাস্তবায়নের এক গভীর নীলনকশা। বিচ্ছিন্নতাবাদী, সন্ত্রাসী অভিযানের নামে সেনাবাহিনী পাহাড়িদের ঘর-বাড়িতে তল্লাশি, হয়রানি অব্যাহত রেখে এবং জেএসএস সন্তু সশস্ত্র গ্রুপকে মদত দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে ত্রাস সৃষ্টি ও সংঘাত জিইয়ে রাখার চক্রান্তকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য বিএনপি সরকার শান্তির বুলি আওড়াচ্ছে। এটি জুম্ম জনগণকে ঘুম পাড়িয়ে রাখার অপচেষ্টাও। অবিলম্বে এসব বন্ধ করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে যেকোনো প্রহসন, দায় এড়ানোর অপকৌশল এবং জনগণের ন্যায্য দাবিকে আড়াল করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ছাত্র-যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ লড়াই-সংগ্রামে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More