সাজেকবাসীর ৫ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন পাঁচ সংগঠন

রাঙামাটি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
রাঙামাটির সাজেক থেকে জেএসএস (সন্তু লারমার) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির ৫ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঁচ গণতান্ত্রিক সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘ, ইউনাইটেড ওয়ার্কার্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট, হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)। অবিলম্বে সাজেকবাসীর উক্ত পাঁচ দফা দাবি মেনে নেয়ার জন্য প্রশাসন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পাঁচ সংগঠন।
আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সভাপতি জিকো ত্রিপুরা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সভাপতি কণিকা দেওয়ান, ইউনাইটেড ওয়ার্কার্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রমোদ জ্যোতি চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নীতি চাকমা ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সমর চাকমা সংবাদ মাধ্যমে প্রদত্ত এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ’জনগণের জানমালের নিরাপত্তা হরণকারী সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে, বরং যারা সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার ন্যায্য দাবি জানাচ্ছে তাদের ওপর বর্বারোচিত হামলা চালানো হয়েছে, যা সভ্য দেশে একেবারে অকল্পনীয় ও অগ্রহণযোগ্য।’
পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের যে কোন ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলন করাকে ক্রিমিন্যালাইজ করা হচ্ছে মন্তব্য করে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘গত বছরও খাগড়াছড়ির গুইমারায় ধর্ষকদের গ্রেফতারের দাবিতে পাহাড়িদের আন্দোলনকে উগ্র বলপ্রয়োগ ও সাম্প্রদায়িক হামলার মাধ্যমে দমনের চেষ্টা করা হয়েছিল। সে সময় তিন জন পাহাড়ি যুবক প্রাণ হারিয়েছিলেন।’
গুইমারার ঘটনার পুনরাবৃত্তি করে গত ২২ অক্টোবর ২০২৬ সাজেকের উজো বাজারে শান্তিপূর্ণ অবরোধ পালনকালে সেনাবাহিনী ও পুলিশ বিনা উস্কানিতে হামলা চালায় বলে তারা উল্লেখ করেন এবং বলেন, “তাদের বেপরোয়া লাঠিচার্জে ৭০ জনের অধিক নারী-পুরুষ ও বৃদ্ধ আহত হন। এছাড়া হামলাকারীরা ঘরবাড়ি-দোকানপাট এবং সাজেক কলেজে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।”
হামলাকারীদের অপরাধ আড়াল করতে ঘটনার মিথ্যা বয়ান তৈরি করা হয়েছে মন্তব্য করে পাঁচ সংগঠনের নেতারা বলেন, ‘ইউপিডিএফ বা সশস্ত্র গোষ্ঠী কর্তৃক পর্যটকদের ওপর গুলি করা হয়েছে বলে আইএসপিআর ও রাঙামাটি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে যে দাবি করা হয়েছে তা শতভাগ মিথ্যা ও বানোয়াট।’
তারা শান্তিপূর্ণ অবরোধকারীদের ওপর অতর্কিত ও নির্বিচার হামলা এবং প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার জন্য আইএসপিআর ও পুলিশের মিথ্যা বয়ান প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
এছাড়া তারা সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবির সমর্থনে বক্তব্য দেওয়ার কারণে গতকাল ২৪ অক্টোবর এসএসসি পরীক্ষার্থী ঝর্ণা চাকমাকে ডিপুপাড়ায় তার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতারের চেষ্টারও নিন্দা জানান।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করা, নিজের মত প্রকাশ করা প্রত্যেক নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু অবরোধ কর্মসূচিতে নগ্ন হামলা, নির্যাতন ও গুলিবর্ষণের মাধ্যমে সাজেকবাসীর সংবিধান-স্বীকৃত মৌলিক অধিকারকে খর্ব করা হয়েছে।’
আলোচনার মাধ্যমে সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবি পূরণ না করে যদি উগ্র বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হয় তাহলে সাজেকের পরিস্থিতি আরও বেশি অশান্ত ও অস্থিতিশীল হবে এবং তখন পর্যটনসহ সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রা আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে পাঁচ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সরকারকে সতর্ক করে দেন।
তারা সাজেকবাসীর নিরাপত্তা ও জনমাল রক্ষাসহ দেশের সামগ্রিক স্বার্থে সাজেক থেকে জেএসএস সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদেরকে সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়া ও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির ৫ দফা দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
