সাজেক পর্যটন থেকে ফেরদৌস চাকমা অপহরণ ঘটনায় মামলা করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ

0
অপহরণের শিকার হওয়া ফেরদৌস চাকমা।


সাজেক প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬

রাঙামাটির সাজেক পর্যটনের একটি রেস্টুরেন্ট থেকে জেএসএস সন্তু গ্রুপ কর্তৃক ফেরদৌস চাকমা অপহরণের ঘটনায় মামলা করতে যাওয়ার পথে তার স্ত্রী ও শ্বশুরকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাঘাইহাট সেনা জোনের গোয়েন্দা শাখার (এফএস) দুই সদস্য মো. হুমায়ুন ও মো. জসিম-এর বিরুদ্ধে। এতে ঘটনায় জেএসএস ও সেনাবাহিনীর যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১০টার সময় অপহৃত ফেরদৌস চাকমার স্ত্রী যতনা চাকমা ও শ্বশুর মনি চাকমা মামলা করার জন্য মাচলং থানার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে উজোবাজারে তাদের গাড়ি থামায় বাঘাইহাট জোনে দায়িত্বরত এফএস মো. হুমায়ুন ও মো. জসিম।

এ সময় মো. হুমায়ুন অপহৃত ফেরদৌস চাকমার স্ত্রী যতনা চাকমাকে বলেন, ‘তোমার স্বামীকে পাওয়া গেছে। সে সাজেক ছোট কংলাকের নিজ বাপের বাড়িতে রয়েছে।” তার এ কথার উত্তরে যতনা চাকমা বলেন, ‘আমার স্বামী যে বাড়িতে রয়েছে কিংবা জেএসএস-এর কাছে রয়েছে তার প্রমাণ দেন।’

এতে তাৎক্ষনিক মো. হুমায়ুন তাদের সামনে জেএসএসের সশস্ত্র কমান্ডার বিক্রম চাকমাকে মুঠোফোনে কল করে হুমকি দিয়ে বলেন ,“আমার টাকায়, আমার নিরাপত্তায় রয়েছেন, অথচ ফেরদৌস চাকমাকে অপহরণের বিষয়টি কেন বলেননি?”

তখন মুঠোফোনের ঐ পাশ থেকে বিক্রম চাকমাকে ‘স্যার! স্যার! আমরা তুলে এনেছি, ফেরদৌস আমার কাছে রয়েছে’ এমন কথা বলতে শোনা যায় বলে ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন দাবি করেন।

তাদের এমন কথোপকথন শুনে অপহৃত ফেরদৌস চাকমার স্ত্রী যতনা চাকমা কান্নায় ভেঙ্গে পড়লে মো. হুমায়ন তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, “দু-এক দিনের মধ্যে তোমার স্বামী বাড়িতে ফিরে আসবে। প্রয়োজনে আমরা নিরাপত্তা দিয়ে তোমার স্বামীকে নিয়ে আসাা হবে। মামলা করার প্রয়োজন নেই।”

এরপর মো. হুমায়ুন ও মো. জসিম বাঘাইহাট সেনা জোনে চলে যান।

এদিকে, মো. হুমায়নের কাছ থেকে এমন আশ্বাস পেয়ে অপহৃতের স্ত্রী যতনা চাকমারা আর থানায় না গিয়ে বাড়িতে ফিরে যাচ্ছিলেন। যাবার পথে বাঘাইহাট বাজারে মো. হুমায়ুন আবার কথা আছে বলে তাদেরকে থামায়। এ সময় হুমায়ুন যতনা ধমক দিয়ে বলেন, “তুমি আমাকে হয়রানি করছো। ফেরদৌস চাকমা কোন অপহরণের শিকার হয়নি। বরং তোমাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাাদের কারণে সে নিজের বাড়ি থেকে চলে গেছে।”

তখন যতনা চাকমা বলেন, ‘স্বামীর সাথে আমার কোন প্রকার ঝগড়া-বিবাদ হয়নি। স্বামী স্ত্রী সমন্বয়ে মাধ্যমে পর্যটনে চাকরি করতে গিয়ে অপহরণের শিকার হয়েছে। আগে আমার স্বামীকে উদ্ধার করেন। তারপর আমাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হয়েছে কিনা তা তদন্ত করতে পারবেন।”

এরপর মো. হুমায়ুন বলেন, “আমি তোমার স্বামীকে উদ্ধারের জন্য চাকরি করতে আসিনি। দু- এক দিন পর তোমার স্বামী এমনিতে চলে আসবে।”

বাঘাইহাট জোনের গোয়েন্দা সদস্যদের এমন আচরণে ফেরদৌস চাকমা অপহরণের ঘটনার সাথে জেএসএস ও সেনাবাহিনীর যোগসূত্র রয়েছে বলে এলাকাবাসী মনে করছেন। তারা অবিলম্বে অপহৃত ফেরদৌস চাকমাকে মুক্তি দেয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, অপহরণের ঘটনাটি বিষয়ে সাজেকে জনপ্রতিনিধি, যুবসমাজ এবং সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির নেতা কর্মীরা আজ (৭ আগস্ট) বেলা ১:০০টার সময় এক আলোচনা সভা করেছেন। এতে ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা অপহৃত ফেরদৌস চাকমাকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন।

উল্লেখ্য, সাজেক পর্যটনের “Same place Restaurant’ নামের একটি রেস্টুরেন্ট চাকরি করতে গেলে গত ৩ আগস্ট জেএসএস সন্তু গ্রুপের একদল সশস্ত্র মোটর সাইকেলযোগে এসে ফেরদৌস চাকমাকে অপহরণ করে উদয়পুরের দিকে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ এলাকাবাসী ও পরিবারের।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More