রামগড়ের কুমারী পাড়ায় ৬ গ্রামবাসীর বাড়িতে সেনাবাহিনীর তল্লাশি-হয়রানির অভিযোগ

0


রামগড় প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার কুমারী পাড়ায় ৬ গ্রামবাসীর বাড়িতে সেনাবাহিনী তল্লাশি, জিজ্ঞাসাবাদের নামে হয়রানি ও এক বাসিন্দাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) ভোর ৪টার দিকে ২০ থেকে ২২ জন সেনাসদস্যের একটি দল পাড়াটিতে প্রবেশ করে। সেনাসদস্যদের সঙ্গে মুখোশধারী আরও চার ব্যক্তিও ছিলেন বলে স্থানীয় জানিয়েছেন। এর মধ্যে সজল ত্রিপুরা ওরফে সুবেল নামে একজনকে চেনা গেলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

পরে সেনারা পাড়ার ৬ বাসিন্দার বাড়িতে তল্লাশি চালায় এবং পরিবারের লোকজনকে নানা জিজ্ঞাসাবাদ করে হয়রানি করে।

তল্লাশির শিকার ব্যাক্তিরা হলেন- ১. হৃদয় ত্রিপুরা (২২), পিতা: রবি মোহন ত্রিপুরা; ২. দেবলক্ষী ত্রিপুরা (৪৬), স্বামী: মৃত সূর্যকুমার ত্রিপুরা; ৩. নরেন্দ্র ত্রিপুরা (৪২), পিতা: বিশিরাম ত্রিপুরা, পেশায় চিকিৎসক; ৪. যুদ্ধ ত্রিপুরা (৫২), পিতা: দয়ারাম ত্রিপুরা ও ৫. গতীন্দ্র ত্রিপুরা (২৯), পিতা: যুদ্ধ ত্রিপুরা ও ৬. রবি মোহন ত্রিপুরা (৪০), পিতা অতিরাম ত্রিপুরা।

স্থানীয়রা জানান, সেনারা হৃদয় ত্রিপুরার বাড়িতে তল্লাশির সময় তাঁকে ইউপিডিএফের পক্ষে কাজ করার বিষয়ে প্রশ্ন করেন। এ সময় তাঁর দুই সন্তানের কথা উল্লেখ করে তাঁকে সতর্ক করা হয় এবং ‘ভবিষ্যতে আর ছাড় দেওয়া হবে না’- এমন হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী দেবলক্ষী ত্রিপুরার অভিযোগ, সেনাসদস্যরা তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়েছে। এ সময় তাঁকে বিকাশ ত্রিপুরাকে চেনেন কি-না, তা জিজ্ঞাসা করা হয়। পরে তাঁর মেয়ের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে বিকাশ ত্রিপুরাকে কল করে অস্ত্র কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

সেনারা নরেন্দ্র ত্রিপুরার কাছ থেকে ইউপিডিএফের কোনো সংগঠক বা সদস্য এলাকায় রয়েছেন কি-না এবং তিনি বিকাশ ত্রিপুরাকে চেনেন কি না, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, যুদ্ধ ত্রিপুরাকে তাঁর ছেলে-মেয়ের সংখ্যা ও তাঁরা বর্তমানে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় বলে জানা গেছে।

গতীন্দ্র ত্রিপুরার বাড়িতে তল্লাশির সময় সেনারা ‘হৃদয় ত্রিপুরার অন্য কোনো নাম রয়েছে কি-না, সুরেশ এিপুরা নামে কাউকে চেনেন কিনা’ ইত্যাদি প্রশ্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আর রবি মোহন ত্রিপুরার বাড়িতে তল্লাশির সময় তাঁর ছেলে হৃদয় ত্রিপুরা কী করেন, তা তিনি জানেন কি-না, সে বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়। একই সঙ্গে হৃদয় ত্রিপুরাকে ইউপিডিএফের সংগঠকদের সঙ্গে মেলামেশা না করার কথা বলতে তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সেনাবাহিনীর এমন হয়রানিমূলক তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় পাড়াবাসীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More