খাগড়াছড়ির গামারিঢালায় নিজেদের জমিতে ঘর নির্মাণ করতে গিয়ে বাগীশ চাকমাদের বাধা দিয়েছে সেটলাররা

0


খাগড়াছড়ি, সিএইচটি নিউজ

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খাগড়াছড়ির গামারিঢালায় নিজেদের নামীয় জমিতে ঘর নির্মাণ করতে গিয়ে বাগীশ চাকমাদের বাধা দিয়েছে সেটলার বাঙালিরা।

আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকালের দিকে এ ঘটনাটি ঘটে বলে ভুক্তভোগী বাগীশ চাকমা নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেছেন।

তিনি জানান, আজ বিকেলের দিকে গামারীঢালায় তাদের নামীয় জায়গায় ঘর তুলতে গেলে একদল সেটলার বাঙালি এসে তাদেরকে বাধা দেয় এবং ঘরের পিলার ভেঙে দিয়ে চলে যায়।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নিজেদের নামীয় জায়গায় যদি নিজেরাই ঘর তুলতে না পারি তাহলে তুলবো কোথায়? এদেশের সংবিধান তার প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সুরক্ষার কথা বললেও পাহাড়ের ক্ষেত্রে সেটার কেন ব্যত্যয় ঘটে বারংবার। পাহাড়ের আইন-কানুন মানে কী জোর যার মুল্লুক তার? এদেশ কী আমাদের নয়? আমরা কী নিজেদের নামীয় জায়গায় ঘর তোলার নাগরিক অধিকারটুকুও পাবো না এই রাষ্ট্র থেকে?”

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৮ আগস্ট দিবাগত মধ্যরাতে মো. মঈনুল ইসলাম (পিতা: মো. মোজাম্মেল হক), মো. সামাদ (পিতা: শমশের আলী বিশ্বাস) ও সাহেরা বেগম (পিতা: মোহাম্মদ শেখ) ও তাদের সহযোগীরা উক্ত জমিতে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করে। পরে থানায় অভিযোগ দেওয়ার কয়েকদিন পর পুলিশের হস্তক্ষেপে সেটলাররা ঘর ভেঙে নিতে বাধ্য হয়।

আরো উল্লেখ্য যে, খাগড়াছড়ির ২৫৬ নং গামারিঢালা মৌজায় আর.এস খতিয়ান নং- ০৫ এর অধীনে উক্ত জমিটি বাগীশ চাকমার দাদু প্যারী মোহন চাকমার নামে সরকারি রেকর্ডভুক্ত। ২০০৩ সালে প্যারী মোহন চাকমার মৃত্যুর পর তাঁর ওয়ারিশগণ উক্ত জমিটি এজমালি দখলে বিদ্যমান রয়েছেন।

গত ২৩/০৪/২০২৬ খাগড়াছড়ি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট হাসান মারুফ মামলাটি নিষ্পত্তি করে উক্ত জমিটি ভোগদখলকারীদের পক্ষে আদেশ প্রদান করেন।

আদেশে বলা হয়, মামলার নথি, দরখাস্তকারীর আরজি, প্রতিপক্ষের জবাব, সহকারী কমিশনার (ভূমি), সদর, খাগড়াছড়ি এর প্রতিবেদন, পক্ষদ্বয়ের সাক্ষীর সাক্ষ্য, বিজ্ঞ কৌঁসুলীগণের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, নালিশী ভূমিতে দরখাস্তকারী তার নিরঙ্কুশ ভোগ দখল প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন।”

“অতএব আদেশ হয় যে, যেহেতু নালিশী ভূমিতে দরখাস্তকারী তার নিরঙ্কুশ ভোগ দখল প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন সেহেতু, তাকে নালিশী ভূমিতে দখলদার সাব্যস্ত করা হলো এবং উপযুক্ত আদালত কর্তৃক নালিশী ভূমির স্বত্ব ও দখল সংক্রান্ত ভিন্নরূপ আদেশ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিপক্ষগণকে নালিশী ভূমিতে প্রবেশ বারিত করা হলো। মামলা নিষ্পত্তি।”



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More