আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে ঢাকায় ইউডব্লিউডিএফের সমাবেশ ও র‌্যালি

0


ঢাকা প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও র‍্যালি করেছে ইউনাইটেড ওয়ার্কার্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউডব্লিউডিএফ)।

আজ শুক্রবার (১ মে ২০২৬) সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে ইউডব্লিউডিএফের সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রমোদ জ্যোতি চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য দয়া সোনা চাকমা ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি জিকো ত্রিপুরা।

“কেবল কোনমতে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাই জীবন নয়, সম্মান, মর্যাদা ও অধিকার নিয়েই প্রকৃত জীবন” এই শ্লোগানে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং মৌলিক অধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি। তারা শ্রমিকদের ওপর চলমান শোষণ, বৈষম্য ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

তারা বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসান ঘটলেও শ্রমিক নির্যাতন আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে নির্ধারিত ১২,৫০০ টাকার মজুরি দিয়ে একটি শ্রমিক পরিবারের জীবনধারণ করা সম্ভব নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন।


বক্তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে আগত শ্রমিকরা কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হন এবং তাদের ভিন্নভাবে দেখা হয়। পাহাড়ি শ্রমিকদের প্রমোশন ও পদোন্নতিতেও নানাভাবে বৈষম্য করা হয় এবং অনেক সময় তারা হেনস্তার শিকার হন। পাশাপাশি পাহাড়িদের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি’-তে সরকারি ছুটি না দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে এখনো দুঃশাসন চলছে এবং সমতল ও পাহাড়ে ভিন্ন ভিন্ন শাসনব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। তারা পাহাড়েও সমতলের মতো সমান শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে অভিযানের নামে রাতে বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি, হয়রানি ও নির্যাতন চালানো হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় মদদে সন্ত্রাসীরা মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করছে। তারা সম্প্রতি যুবনেতা ধর্মশিং চাকমা হত্যার ঘটনায় জড়িত জেএসএস(সন্তু) সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান।


সমাবেশ থেকে বক্তারা বাস্তবসম্মত ও মানবিক মজুরি নির্ধারণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও জীবনের সুরক্ষা প্রদান, নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা, ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীনতা, শ্রমিক নির্যাতন ও হত্যার বিচার এবং পাহাড়ি শ্রমিকদের “বৈসাবি” উৎসবে যথাযথ ছুটি নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরেন।

সমাবেশ শেষে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে পল্টন মোড় পর্যন্ত একটি র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More