কাউখালীতে সেনাবাহিনী ও জেএসএস সন্তু গ্রুপের যৌথ সশস্ত্র তৎপরতা

0

কাউখালী(রাঙামাটি), সিএইচটি নিউজ
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

রাঙামাটির কাউখালীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও জনসংহতি সমিতির সন্তু গ্রুপ সমন্বিতভাবে সশস্ত্র তৎপরতা চালাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই ২০২৬) সকালে ঘাগড়া চাম্পাতলি ক্যাম্প থেকে একটি সেনাদল কোজোইছড়ি তলে আদামের কিয়ং (বৌদ্ধ বিহার) পর্যন্ত যায়। এরপর তাদের নিরাপত্তার ছায়ায় সন্তু গ্রুপের একটি সশস্ত্র দল কোজোইছড়ি মোনের কড়ই চাপ আদামে (গ্রাম) গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে সেনারা ক্যাম্পে ফিরে গেলেও, সন্তু গ্রুপের সন্ত্রাসীরা এখনো সেখানে অবস্থান করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী ও সন্তু গ্রুপ পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে কাজ করছে। তারা মনে করেন সন্তু গ্রুপ যা করছে তা জাতীয় স্বার্থের বিরোধী এবং সেনাবাহিনীর পক্ষে। এ কারণে মুখ ফুটে বলতে না পারলেও তারা সন্তু গ্রুপকে সমর্থন করেন না। 

এদিকে, সেনাবাহিনীর সাথে মিলে সন্তু গ্রুপের এমন সশস্ত্র তৎপরতায় এলাকাবাসী ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে এ ধরনের জাতীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধের জন্য সন্তু লারমার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।  

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৭ জুন রাতে জেএসএস সন্তু গ্রুপের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ঘাগড়া ইউনিয়নের নুও আদাম ও লেভাপাড়ায় আসে। পরদিন (২৮ জুন) সকালে লেভাপাড়ার পুরাতন আর্মি ক্যাম্পের ভিটা/টিলা হতে লাকড়ি আনতে যাওয়া দুই নারীকে তারা অপহরণ করে ৬ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তবে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিবাদ দেখা দিলে তারা উক্ত দুই নারীকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

তারও আগে, গত ৫ মে রাতে সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা সেনাবাহিনীর সহায়তায় কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের দেবতাছড়ি গ্রাম থেকে পাঁচটি সিএনজি যোগে ঘাগড়া ইউনিয়নের বগাপাড়া চন্দ্র বংশ শিশু সদন হয়ে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার অন্তর্গত চৌচলাবিল গ্রামে গিয়ে অবস্থান নেয়। এরপর চাম্পাতলি সেনা ক্যাম্পের তত্ত্বাবধানে তারা রাঙ্গুনিয়া সীমান্তের চাল্যাতলি নামক স্থানে অস্তানা গড়ে তুলে সেখান থেকে ঘাগড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে সশস্ত্র তৎপরতা চালাচ্ছে। গত ১২ জুন তারা ঘাগড়ার নুও আদামে এসে সশস্ত্র কর্মকাণ্ড চালালে জনগণের প্রতিরোধের মুখে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তাদের আস্তানায় ফিরে গিয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More