লংগদুর কয়েকটি এলাকায় সেনা টহলের নামে উপদ্রব

0


লংগদু প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
রবিবার, ১০ মে ২০২৬

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার কয়েকটি এলাকায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা যায়, গত ৪ মে মাইনী জোন থেকে ১৫০ জনের মতো একটি সেনাদল কাট্টলীতে বিবর্ণ বিজয় চাকমার আম বাগানে অবস্থান নেয়। সেখানে একদিন অবস্থান করে আগুন জ্বালিয়ে আম বাগানের ক্ষতি করার পর তারা রাধামন বাজারে চলে যায়।

বর্তমানে সেখান থেকে তারা ভেঙ্গীছড়া, বড় কাট্টলী, ছোট কাট্টলী, ডুলুছড়ি, কুকিছড়া, পাগলীছড়া, কিচিং আদামসহ বিভিন্ন পাহাড়ি গ্রামে টহল দিচ্ছে। সেনারা ড্রোন উড়িয়েও নজরদারি করছে। এতে গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং তাদের দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটছে।

রাধামন বাজারের পাশে সেনারা এক সপ্তাহ থাকবে বলে এলাকাবাসীকে জানিয়েছে।

পাহাড়ি গ্রামবাসীরা সেনাটহলকে অপ্রয়োজনীয় উপদ্রব ও মনস্তাত্বিক নির্যাতন বলে মনে করছে।

ভেঙ্গীছড়া গ্রামের এক মুরুব্বী নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিএইচটি নিউজকে বলেন, ‘আর্মিরা কেন টহল দেয় আমরা বুঝি না। তাদের টহলের কারণে আমাদের অসুবিধা হয়। তারা টহল দিলে আমরা ভয়ে ভয়ে থাকি। কারণ অনেক সময় তারা বিনা কারণে আমাদের ঘরবাড়ি তল্লাশির নামে লুটপাট করে, জিজ্ঞাসাবাদের নামে হয়রানি করে ও নারীদের শ্লীলতাহানি করে।’

তার অভিমত হলো, সেনাবাহিনী যদি জনগণের নিরাপত্তার জন্য হয়, তাহলে তাদের উচিত যারা পাহাড়িদের গ্রামে হামলা চালায়, আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়, তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।

তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, আজ পর্যন্ত পাহাড়িদের বসতিতে কত বার হামলা হয়েছে তার হিসাব নেই, অথচ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না।

বড় কাট্টলীর এক শিক্ষক প্রশ্ন করেন, সেনাবাহিনীর কাজ যদি সন্ত্রাস দমন হয়, তাহলে কেন তারা ঠ্যাঙাড়ে বাহিনী পোষে ও তাদেরকে দিয়ে খুন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি করে?

তিনি মনে করেন পার্বত্য চট্টগ্রামে যত অশান্তির মূল কারণ হলো সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীই জুম্মদের ধ্বংস করার জন্য সন্তু লারমাকে দিয়ে ভাইয়ে ভাইয়ে সংঘাত সৃষ্টি করেছে এবং ঠ্যাঙাড়ে বাহিনী সৃষ্টি করেছে।

সেনাবাহিনীর এই খেলা বন্ধ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More