লংগদু গণহত্যার ৩৭ বছর উপলক্ষে কাউখালীতে পিসিপির আলোচনা সভা

কাউখালী প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
সোমবার, ৪ মে ২০২৬
১৯৮৯ সালের ৪ মে সেনা-সেটেলার কর্তৃক লংগদুতে সংঘটিত নারকীয় গণহত্যার ৩৭ বছর উপলক্ষে নিহতদের স্মরণে রাঙামাটির কাউখালীতে আলোচনা সভা করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), রাঙামাটি জেলা কমিটি।
আজ সোমবার (৪ মে ২০২৬) বিকাল ৫টার সময় সেনাবাহিনীর তৎপরতা উপেক্ষা করে কাউখালির ঘাগড়া ইউনিয়নের উল্টা-রাঙী পাড়া এলাকায় এই আলোচনা সভা করা হয়। এতে স্থানীয় স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন পিসিপির রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি চয়ন চাকমা ও একই কমিটির অর্থ সম্পাদক জিপল চাকমা। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের রাঙামাটি জেলা কমিটির তথ্য প্রচার সম্পাদক নন্দা চাকমা, পিসিপি’র কাউখালি উপজেলা সভাপতি সুজেচ চাকমা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কাউখালী উপজেলা শাখার সভাপতি একা চাকমা।
বক্তারা বলেন, ১৯৮৯ সালের ৪ মে রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহায়তায় সেটলার বাঙালিরা পাহাড়ি অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে পরিকল্পিতভাবে বর্বরোচিত গণহত্যা চালায়। এতে বহু পাহাড়ি হতাহত হয় এবং নিহতের লাশ গুস করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেটলাররা পাহাড়িদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয় এবং বৌদ্ধ মন্দির ও বুদ্ধ মুর্তি ধ্বংস করে দেয়। সে সময় ক্ষমতার আসনে ছিলেন স্বৈরাচারী এরশাদ। ফলে এ বর্বর হত্যাযজ্ঞের সংবাদ সে সময় বাংলাদেশের কোন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়নি বা প্রকাশ করতে দেওয়া হয়নি।

তারা আরও বলেন, লংগদু গণহত্যার প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে ২০ মে ‘৮৯ বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ জন্ম লাভ করে এবং পরদিন ২১ মে ঢাকার রাজপথে মৌন মিছিলের মাধ্যমে এ বর্বর হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ জানায়।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লংগদু গণহত্যার ৩৭ বছর পূর্ণ হলেও এখনো কোন সুস্থ তদন্ত ও বিচার হয়নি। দেশে নানা সরকার বদল হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত গণহত্যাগুলোর বিচারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি।
বক্তারা লংগদু গণহত্যাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত সকল গণহত্যার শ্বেতপত্র প্রকাশপূর্বক সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
