সন্তু গ্রুপের ব্যাপক চাঁদাবাজি, জনগণের অসন্তোষ

রাঙামাটি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
সোমবার, ৪ মে ২০২৬
জনসংহতি সমিতির সন্তু গ্রুপ তার অর্থ সংকট কাটাতে ব্যাপক চাঁদাবাজিতে নেমেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে এতে জনগণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গতকাল ৩ মে ও আজ ৪ মে ২০২৬ জেএসএস সন্তু গ্রুপের লোকজন বরকল-লংগদু এলাকায় প্রত্যেক গ্রাম ও প্রতি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা করে এক মাসের জন্য “ধার” দাবি করেছে।
উক্ত অঞ্চলের কমাণ্ডার দীপ্ত চাকমা, জুনোপহর চাকমা ও রিটেন চাকমা গ্রামের কার্বারী ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যেককে ফোন করে উক্ত টাকা দাবি করেন। এক মাস পর তারা ওই ধার ”শোধ“ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। তবে তাদের এ কথায় কেউ বিশ্বাস করেনি।
এছাড়া আগামী জুন মাসে প্রতি গ্রাম থেকে বাৎসরিক আরও এক লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলেও সন্তু গ্রুপের কমান্ডাররা জানান। অর্থাৎ ধার হিসেবে প্রত্যেক গ্রামের লোকজনকে সম্মিলিতভাবে এক লক্ষ টাকা, আর চাঁদা হিসেবে আরও এক লক্ষ টাকা, মোট দুই লক্ষ টাকা সন্তু গ্রুপকে দিতে হবে।
জেএসএস নেতারা বলেন জরুরী প্রয়োজনে তাদের উক্ত অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু কী জরুরী প্রয়োজন তা তারা বিস্তারিত জানায়নি। তারা আরও বলেছেন, তাদের পার্টি জেএসএস বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি এই পার্বত্য জেলা থেকে (প্রতি জেলা থেকে ২ কোটি করে) মোট ৬ কোটি টাকা উত্তোলন করবে।
যে সব গ্রাম থেকে ধার ও চাঁদা দাবি করা হয়েছে সেগুলোর কয়েকটি হলো উকছড়ি, পিত্যেছড়ি, গরুহিয়া, রূপবান, বড়কলক, আজাছড়া, শিলছড়ি, পাগলীছড়া, তন্যাছড়ি, তলে আজাছড়া, পানছড়ি, শিলাকডাক, চাপহিয়াছড়া, শুগরছড়ি, দীঘলছড়ি ইত্যাদি। বড়কলক বাদে বাকি গ্রামগুলো রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলার সুবলং ইউনিয়নে অবস্থিত। বড়কলক লংগদু উপজেলায়।
গ্রামবাসী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এত বিপুল অংকের টাকা “ধার” ও চাঁদা দাবি করায় তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের এক কার্বারী ক্ষোভের সাথে বলেন, ’একটি গ্রামে আমরা ২০-২৫ পরিবার বাস করি। অধিকাংশই গরীব। আমাদের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা কোন মতে সম্ভব নয়।’
সন্তু গ্রুপের এত টাকা কেন দরকার এমন প্রশ্ন তুলে ঐ ঐলাকায় ”স” আদ্যাক্ষর যুক্ত এক শিক্ষক বলেন, ‘তারা তো কোন আন্দোলন সংগ্রাম করছে না। তাহলে তাদের কেন এত টাকার প্রয়োজন আমরা তা বুঝতে পারি না।’
চুক্তির পর গত ২৮ বছরে তারা কোন আন্দোলন করেনি বলে তিনি জানান এবং বলেন ভবিষ্যতেও যে তারা আন্দোলন করবে তার কোন লক্ষণ দেখা যায় না।
তিনি মনে করেন, সন্তু গ্রুপ জনগণের উক্ত টাকার একটি অংশ দিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ কিনে নিজ ভাইয়ের বুক ঝাঁঝরা করে দেবে, আর একটি অংশ সন্তু লারমার আত্মীয় স্বজন ও নেতাদের বিলাসী জীবন যাপনের জন্য ব্যবহৃত হবে।
তিনি সন্তু গ্রুপকে চাঁদা বা ধার না দেয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
