জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাথে শৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টতায় উদ্বেগ প্রকাশ উষাতন চাকমার

রাঙামাটি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
সরকারের একটি বিশেষ শৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতায় রাঙামাটির সাজেকে জনসংহতি সমিতির (সন্তু) সশস্ত্র সন্ত্রাস বৃদ্ধির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ও ফটিকছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উষাতন চাকমা।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে উষাতন চাকমা বলেন, “বিভিন্ন সূত্র থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, গত ৩১ আগস্ট সন্ধ্যায় জেএসএস (সন্তু) দলের ৪০-৪৫ জনের একটি সশস্ত্র গ্রুপ সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে পানি সরবরাহের জন্য নিয়োজিত গাড়ি (জীপ) ব্যবহার করে দাড়িপাড়া থেকে সাত নম্বর নামক এলাকায় আসে এবং এরপর তারা দুই সেনা ক্যাম্পের মাঝখানে ব্রিজপাড়া, নুও পাড়া ও শিবপাড়ায় গিয়ে অবস্থান নেয়। এই পাড়াগুলো মাচালং আর্মি ক্যাম্প থেকে মাত্র ২ মাইল উত্তর-পূর্বে এবং ৯ নং আর্মি ক্যাম্প থেকে ৩ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, “১ সেপ্টেম্বর বিকেলের দিকে উক্ত বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা ব্রিজ পাড়ার শেষ মাথায় গিয়ে জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের নিকট খাদ্য, পানি ও অন্যান্য রসদ সরবরাহ করে।
“এরপর গতকাল অর্থাৎ ২৯ সেপ্টেম্বর মাচালং এলাকায় জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের এলোপাথারি গুলিতে কস্মিতা ত্রিপুরা নামে ৯ বছর বয়সী এক শিশু আহত হয়, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে তুলে ধরে।
“এদিন ইউপিডিএফের সদস্যদের উপর সশস্ত্র হামলার সময় বাংলাদেশ আর্মির একটি দলকে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সদস্যদের কাছ থেকে মাত্র ১০০-১৫০ গজ দূরত্বে গিয়ে অবস্থান নিয়ে তাদেরকে সাহায্য করতে দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।”
বিবৃতিতে তিনি স্পষ্টভাবে বলে দেন যে, “বর্ণিত ঘটনাগুলো জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাথে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর গভীর সহযোগিতামূলক সম্পর্ককেই প্রমাণ করে, যা জনগণের চোখে সরকার ও উক্ত বাহিনীর ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন ও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
“যেখানে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা, সেখানে যদি রাষ্ট্রের কোন শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও সাহায্য-সহযোগিতা দেয়, তখন সন্ত্রাস দমনে সরকার ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর অঙ্গীকার গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়।”
তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, “এই প্রেক্ষিতে আমি আমাদের সংগঠন তথা পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের পক্ষ থেকে এই দাবি জানাচ্ছি যে, অবিলম্বে সাজেকে সন্ত্রাস ও অশান্তি সৃষ্টিকারী জেএসএস সন্তু গ্রুপের দুর্ধর্ষ সশস্ত্র সদস্যদের সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান বন্ধ করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।”
তিনি বলেন, “সাজেকসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের সন্ত্রাস-মুক্ত পরিবেশে শান্তিতে বসবাস করার অধিকার রয়েছে, যা নিশ্চিত করার দায়িত্ব জনগণের দেয়া করের টাকায় চলা সরকার ও রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।”
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
