পানছড়ির মরাটিলা এলাকায় বাড়ি বাড়ি সেনাবাহিনীর ঘেরাও-তল্লাশি, এলাবাসীর নিন্দা ও প্রতিবাদ

পানছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার মরাটিলা এলাকায় সেনাবাহিনী বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়েছে। এতে তিনটি পাড়ায় অন্তত ১৩ গ্রামবাসীর বাড়ি ঘেরাও করে করে তল্লাশি-হয়রানি করা হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কার্বারী ও এলাকাবাসী তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মধ্যরাত ১২টার দিকে পানছড়ি সদর জোন থেকে ৬টি গাড়িতে করে সেনাবাহিনীর সদস্যরা মরাটিলা এলাকায় গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে সেনা সদস্যরা ওই এলাকার পদ্মনি পাড়া, চিংসা পাড়াসহ তিনটি পাড়ায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘেরাও, তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের নামে পাড়াবাসীদের হয়রানি করে।
যাদের বাড়িতে ঘেরাও-তল্লাশি ও হয়রানি করা হয়েছে তাদের মধ্যে পদ্মনি পাড়ায় রয়েছেন ৫ জন, চিংসা পাড়ায় (কারবারি রবীন্দ্র ত্রিপুরা এলাকা) রয়েছেন ৪ জন ও মরাটিলায় (কারবারি বাদশা কুমার ত্রিপুরা এলাকা) রয়েছেন ৪ জন। এছাড়াও আরো বেশ কয়েকজনের বাড়ি ঘেরাও করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পদ্মনি পাড়ার ভুক্তভোগীরা হলেন- ১. কর্ণমনি ত্রিপুরা (৩৫), পিতা: মৃত কিরন মনি ত্রিপুরা; সুরেন্দ্র ত্রিপুরা (২৮), পিতা মৃত সুইচা মনি ত্রিপুরা; ৩. রইবালা ত্রিপুরা (৫৫, বিধবা), স্বামী মৃত ধিব্বাজয় ত্রিপুরা; ৪. চাকরাং মনি ত্রিপুরা (২৮), পিতা: রুব্বান ত্রিপুরা; ৫. বালাতি ত্রিপুরা (৪৭, বিধবা), স্বামী: মৃত দেব রঞ্জন ত্রিপুরা;
চিংসা পাড়ায় ভুক্তভোগীরা হলেন- ১.তপিন্দ্র ত্রিপুরা (৬২), পিতা: মৃত পূর্ণ কুমার ত্রিপুরা; নিখিল ত্রিপুরা (৩০), পিতা: অলিন্দ্র ত্রিপুরা; অমৃত ত্রিপুরা (৫৫), পিতা: মৃত তরুণ কুমার ত্রিপুরা; ৪. বিপিন জ্যোতি ত্রিপুরা (৪৮), পিতা: মৃত ফেলা কুমার ত্রিপুরা।
মরাটিলায় (কারবারি বাদশা কুমার ত্রিপুরা এলাকা) ভুক্তভোগীরা হলেন- ১. ধনঞ্জয় ত্রিপুরা (৩৭), পিতা: মৃত উরি কুমার ত্রিপুরা; ২. মলেন কুমার ত্রিপুরা (২৮), পিতা: তৃণ কুমার ত্রিপুরা; ৩. অলিন ত্রিপুরা (২৭), পিতা: সংঘাত ত্রিপুরা; ৪. মহন ত্রিপুরা (২৬), পিতা: রাজেন্দ্র ত্রিপুরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা সিএইচটি নিউজকে বলেন, সেনাসদস্যরা ভোররাতে বাড়ির দরজায় সজোরে ধাক্কা দিয়ে তাদের ঘুম থেকে জাগান। এতে তারা ভয় পেয়ে যান এবং শিশুরা আতঙ্কে থরথর করে কাঁপতে থাকে। একপর্যায়ে তারা দরজা খুলে দিতে বাধ্য হন। এরপর সেনাসদস্যরা জোরপূর্বক কারও কারও বাড়িতে প্রবেশ করে তল্লাশি চালান। আবার কারও কারও বাড়ির দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে টর্চের আলো ঘরের ভেতরে ফেলে দেখেন এবং ইউপিডিএফ সদস্যরা কোথায় থাকেন, তা জানতে চান ও ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগ করেন তারা।
মরাটিলার কারবারি বাদশাহ কুমার ত্রিপুরা ও চিংসা পাড়ার কারবারি রবীন্দ্র ত্রিপুরার সঙ্গে কথা বলেন সিএইচটি নিউজ ডটকমের স্থানীয় প্রতিনিধি। তারা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সেনাবাহিনীর সদস্যরা ভোররাত থেকে পদ্মনি পাড়া ও চিংসা পাড়ায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ব্যাপক তল্লাশি ও বাড়ির মালিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এতে গ্রামবাসীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
এ রিপোর্ট লেখার আগ পর্যন্ত সেনাসদস্যরা ওই এলাকায় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে গ্রামবাসীদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এদিকে, তল্লাশি অভিযানের নামে সেনাবাহিনীর এমন হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় কার্বারী ও এলাকাবাসী। তারা বলেন, সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করার পর এসব গরিব, সাধারণ খেটে-খাওয়া পরিবারের সদস্যদের রাতের ঘুমটুকুও ঠিকমতো যেতে দেওয়া হচ্ছে না। তারা সেনাবাহিনীর এমন হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানান।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
