বাঘাইহাট জোনের টু-আইসিকে সাজেক কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি না করলে মামলার হুমকির অভিযোগ!

সাজেক প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
বাঘাইহাট সেনাজোনের টু-আইসি মো. সালমানকে সাজেক কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি করা না হলে চলমান মামলার আইনগত প্রক্রিয়া শুরুর হুমকি প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাজেক (মাচলঙ) থানার ওসির মাধ্যমে জোন থেকে এই হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। বর্তমানে সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা।
জানা যায়, আজ সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) বিকাল ৩টার সময় মাচলঙে অবস্থিত সাজেক থানায় ওসি মো. তোফাজ্জলের নেতৃত্বে এক জরুরী বৈঠক হয়। এতে ৩৬ নং সাাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অতুলাল চাকমা, সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা, ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার পরিচয় চাকমা, ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার সুমিতা চাকমা, কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য বাবুধন চাকমা ও জিকো চাকমা অংশ নেন।
বৈঠকে থানার ওসি মো. তোফাজ্জল উপস্থিত প্রতিনিধিদের জানান যে, “আমার মাধ্যমে বাঘাইহাট জোন থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বাঘাইহাট জোনের টু-আইসি মো. সালমানকে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বানাতে হবে। অন্যথায় কলেজে কোন প্রকার ক্লাস করানো যাবে না। প্রয়োজনে চলমান মামলার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চালানো হবে।”
এ সময় উপস্থিত প্রতিনিধিরা ওসির কাছ থেকে কলেজ নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ চাইলে তিনি (ওসি) বলেন, “চলমান মামলার আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হলে কোন ছাত্র, শিক্ষক কলেজে আসতে পারবে না। তখন আমার করার কিছু থাকবে না। পার্বত্য চট্টগ্রামে পুলিশের কোন ক্ষমতা নেই। বরং সেনাবাহিনীর সাথে বোঝাপড়া করাই আপনাদের বুদ্ধিমানের কাজ হবে।”
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এমন হুমকিকে কেন্দ্র করে এলাকার জনপ্রতিনিধি ও মুরুব্বীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সেনাবাহিনী একজন কর্মকর্তাকে কেন কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি রাখতে হবে তা দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
উল্লেখ, আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সাজেক কলেজের শ্রেণিকক্ষে ক্লাস চালু করা নিয়ে নানা ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। ক্লাস শুরুর আগে সকাল ৯টার সময় সেনাবাহিনী ও বনবিভাগের লোকজন বাধা প্রদান করেন। পরে শিক্ষকরা যথাসময়ে সকাল ১০টায় উপস্থিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্লাস শুরু করলে দুপুর ১২টার সময় আবার বনবিভাগ ও পুলিশ কলেজে গিয়ে বাধা প্রদানের চেষ্টা করে। পরে এলাকার জনগণের যুক্তিতে কুলিয়ে উঠতে না পেরে সেখান থেকে তারা চলে যায়।
এই বাধা প্রদানের ঘটনা শুধু আজকের নয়। কলেজটি নির্মাণ শুরু থেকে সেনাবাহিনী ও বনবিভাগ নানাভাবে বাধা দিয়ে আসছে। কলেজ নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বনবিভাগ সাইনবোর্ডও টাঙিয়ে দিয়েছে। এই কলেজ নির্মাণকে কেন্দ্র করে ইউপি চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমাসহ কয়েকজনের নামে ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষয়-ক্ষতির মামলাও দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া রাতের আঁধারে কলেজ রুমে সেনাবাহিনীর তল্লাশিসহ বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসী এর প্রতিকার চেয়ে জেলা, উপজেলা থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত আবেদন-নিবেদন করেছেন। কিন্তু আজও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না তারা।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
