ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে সন্তু লারমার সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর জখম দুই বোন

সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত কৃপা সোনা চাকমা (বামে) ও ভাগ্য শোভা চাকমা (ডানে)।
বিশেষ প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
জেএসএস সন্তু গ্রুপের এক নৃশংস হামলা ও নির্মমতার সাক্ষী হলো রাঙামাটির কুদুকছড়ি আবাসিক নামে পরিচিত কুতুকছড়ি উপর পাড়াবাসীসহ পার্বত্যবাসী। ভাই ধর্মশিং চাকমাকে বাঁচাতে গিয়ে সন্তু লারমার লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর জখম হয়েছে দুই বোন কৃপা সোনা চাকমা ও ভাগ্য শোভা চাকমা। কিন্তু তারা তাদের ভাইকে বাঁচাতে পারেননি। সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে ধর্মশিং চাকমাকে।
জানা যায়, আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই সন্তু লারমার পরিচালিত জেএসএস’র একটি সশস্ত্র দল হানা দেয় আবাসিক গ্রামে। তারা ঘেরও করে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ধর্মশিং চাকমাদের বাড়ি। এ সময় ধর্মশিং চাকমা তার সন্তানদের আদর-যত্ন করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রাণ বাঁচাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান তিনি। কিন্তু সন্ত্রাসীরা তাকে দেখে ফেলে এবং সশস্ত্রভাবে তাকে পিছু ধাওয়া করতে থাকে। এ সময় ভাইকে রক্ষার জন্য তার দুই বোন কৃপা সোনা চাকমা ও ভাগ্য শোভা চাকমাও প্রাণপণ ছুটতে থাকেন তাদের পিছু পিছু।
এক পর্যায়ে বাড়ি থেকে কিছু দূরে গিয়ে সন্ত্রাসীরা ধর্মশিংকে ধরে ফেলতে সক্ষম হলে ভাইয়ের প্রাণ রক্ষায় দুই বোন প্রাণপণ চেষ্টা চালান। তারা হয়তো মনে করেছিলেন সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর গুলি চালাবে না। হয়তো তার ভাইকে মেরে ফেলবে না। কিন্তু বিধিবাম! সন্ত্রাসীদের কোন মায়া হলো না, কোন বিবেকবোধ জাগল না। তারা দুই বোনের ওপর গুলি চালিয়ে জখম করার পর ধর্মশিং চাকমাকে হত্যা করে বীরদর্পে চলে যায়। নিজেদের সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করেও দুই বোন তাদের প্রিয় ভাইটিকে বাঁচাতে পারেননি। উল্টো সন্ত্রাসীদের নিষ্ঠুর গুলিতে নিজেরাও এখন গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের দু’বোনেরই হাতে গুরুতর জখম হয়েছে।
সন্তু গ্রুপের এমন নৃশংসতায় আবারো রক্তাক্ত হলো পাহাড়। ঝরে গেলো আরেকটি তাজা প্রাণ। খালি হলো আরেকটি মায়ের কোল। পিতৃহীন হয়ে পড়লো দুই অবুজ শিশু। স্বামী হারা হলো এক নারী।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ তারিখে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সৃষ্ট “নব্যমুখোশ” নামধারী একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী একইভাবে উক্ত গ্রামে হানা দিয়েছিল। সেদিন ওই সন্ত্রাসীরা হিল উইমেন্স ফেডারেশনের তৎকালীন নেত্রী মন্টি চাকমা এবং দয়া সোনা চাকমাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়। সেই ঘটনার সময়ও একই কায়দায় সন্ত্রাসীরা ধর্মশিং চাকমাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল। তবে তার ছোট বোন ভাগ্য শোভা চাকমা (বর্তমানে আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন) আগলে ধরে রেখে ধর্মশিংকে বাঁচিয়েছিলেন। আহত অবস্থায় সন্ত্রাসীরা ধর্মশিংকে ফেলে রেখে গিয়েছিল। কিন্তু আজকে সন্তু গ্রুপের সন্ত্রাসীরা আর ধর্মশিংকে বাঁচতে দিল না।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
