মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করায় সাজেকে প্রথম আলো পত্রিকা পোড়ালো এলাকাবাসী

0

সাজেক প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

সাজেকে বিজিবির গাড়ির ধাক্কায় সিএনজিতে থাকা অন্তঃসত্ত্বা স্কুল শিক্ষিকা সুমন্তি চাকমার মৃত্যুর ঘটনায় বিজিবিকে দায়মুক্তি দিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করায় প্রথম আলো পত্রিকা পায়ে মাড়িয়ে ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাজেক এলাকাবাসী।

আজ সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) বিকালে সাজেকের উজোবাজারে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কার্বারি এসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা।

বাবুধন চাকমা অভিযোগ করে বলেন, বিজিরি গাড়ির ধাক্কায় সুমন্তি চাকমার মৃত্যুর ঘটনায় বিজিবিকে দায়মুক্ত রাখার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রথম আলোসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। আজকের এই প্রতিবাদ শুধু প্রথম আলো পত্রিকার জন্য নয়। এটা ইত্তেফাক, একাত্তর, যুগান্তর, আজাদী, পার্বত্য নিউজসহ যেসব মিডিয়ায় ঘটনাটি নিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে আমরা তার নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি। আমরা এ ধরনের সাংবাদিকতা চাই না। আমরা চাই মিডিয়ায় যাতে সঠিক ও বস্তুনিষ্ট সংবাদ প্রকাশ হয়। তিনি মিডিয়ায় প্রকাশিত উক্ত মিথ্যা সংবাদ প্রত্যাখ্যান করেন।

নতুন জয় চাকমা বলেন, বিজিবির গাড়ির ধাক্কায় অন্তঃসত্ত্বা স্কুল শিক্ষিকা সুমন্তি চাকমার মৃত্যুর ঘটনায় বিজিবির সম্পৃক্ততা আড়াল করে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করায় আমরা এখানে প্রথম আলো পত্রিকায় আগুন দিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অন্যান্য মিডিয়াগুলোর প্রতি নিন্দা-ধিক্কার জানাচ্ছি।

তিনি সুমন্তি চাকমার মৃত্যুর ঘটনায় যেসব দাবি জানানো হয়েছে সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুলাই সকাল ১০টার সময় সাজেকের ডাব আদাম গ্রামের বাসিন্দা স্বপন চাকমার স্ত্রী ও স্থানীয় ডাব আদাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুমন্তি চাকমা সন্তান প্রসবের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর উদ্দেশ্যে সিএনজি অটোরিকশাযোগে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। যারব পথে মাচলং ১৪ কিলো এলাকায় পৌঁছলে বিজিবির একটি ডাম্প ট্রাক পিছন দিক থেকে তাকে বহনকারী অটোরিকশাকে সজোরের ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং সুমন্তি চাকমাসহ তিন জন গুরুতর আহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে সুমন্তি চাকমার মৃত্যু হয়। সাথে মৃত্য ঘটে তার পেটে থাকা অনাগত সন্তানেরও। 

উক্ত ঘটনার পর প্রথম আলোসহ দেশের মূলধারার বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যম বিজিবির নাম আড়াল করে স্রেফ ‘ট্রাকের ধাক্কায় স্কুল শিক্ষিকার মৃত্যু’ শিরোনামসহ মিথ্যাভাবে সংবাদ প্রকাশ করে। 



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More