রামগড়ে আবারও ভূমি বেদখলের ষড়যন্ত্র

0


রামগড় প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

খাগড়াছড়ির রামগড়ে আবারও পাহাড়িদের জমি বেদখলের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।

জানা যায়, রামগড় উপজেলার বাটনা শিবির, তৈসাগাড়া, থানাচন্দ্র পাড়া, লালছড়ি এবং পাতাছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়িদের জমির ওপর দীর্ঘ দিন ধরে লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে একশ্রেণীর অতিলোভী সেটলারের। তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে মো. ইউনুস নামের এক ভূমি দস্যু।

ইতিমধ্যে অনেক এলাকায় বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী সেটলাররা পাহাড়িদের জমি জবরদখল করে বসবাস শুরু করেছে।

ভূমি বেদখলকে ন্যায্যতা দেয়ার জন্য সেটলাররা উক্ত জমিগুলো তাদের দাবি করে গত ২০ জুলাই খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে এবং ২১ জুলাই রামগড়ে মানববন্ধন করেছে। সেনাবাহিনীও সেটলারদেরকে ভূমি বেদখলে সহায়তা দিতে কাজ করে যাচ্ছে। পাহাড়ি ভূমি মালিকরা যাতে ভূমি বেদখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহস না পায় সে জন্য সেনারা সেনা অপারেশন ও টহল জোরদার করে ভীতিমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রেখেছে।

এছাড়া ঠ্যাঙাড়ে মুখোশ বাহিনীকেও মাঠে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা নিরীহ গ্রামবাসীদের অপহরণ, চাঁদাবাজি ও হুমকি দিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। অপরদিকে সেটলার সর্দার ইউনুস গংরা গত বুধবার (২২ জুলাই) বাজারগামী পাহাড়িদের ওপর হামলা চালায় ও তাদের সব জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এ হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

এসবই যুগপৎভাবে করা হচ্ছে যাতে সেটলাররা ভূমি বেদখল করতে এলে পাহাড়িরা সংগঠিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারে।

সোনাইআগা গ্রামের এক মুরুব্বী আশঙ্কা করে বলেন, সেটলাররা যে কোন সময় তাদের জমি কেড়ে নিতে সংঘবদ্ধভাবে পাহাড়িদের গ্রামে হামলা চালাতে পারে।

তিনি বলেন, পাহাড়িরা বংশানুক্রমে সোনাইআগা, পাতাছড়াসহ রামগড়ের বিভিন্ন এলাকায় জুমচাষের মাধ্যমে জমি ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে এসব জমি কেড়ে নিতে কিছু লোভী সেটলার তাদেরকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হুমকি দিচ্ছে।

নিরাপত্তজনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি আরও বলেন, তাদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে, পেছনে যাওয়ার আর কোন জায়গা নেই। তাই প্রতিরোধ করা ছাড়া তাদের আর কোন বিকল্প নেই।

‘প্রয়োজনে নিজ জমিতে সংগ্রাম করে মরব, তবু জমি ছেড়ে দেব না’ বলে তিনি জানান এবং ইউপিডিএফ ও জেএসএস-সহ সকল দল ও সংগঠনকে তাদের পাশে থাকার ও ভূমি বেদখলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More