রামগড়ে সেটলার বাঙালির গোয়ালঘর পুড়ে যাওয়ার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেয়ার ষড়যন্ত্র!

রামগড় প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার গরুকাটা এলাকায় গতকাল (১৩ আগস্ট) রাতে মো. বারেক (৪০) নামে এক সেটলার বাঙালির নিজের জ্বালানো আগুনে তার গোয়ালঘর পুড়ে যাওয়ার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে সেটলার বাঙালিরা। এতে এলাকায় পাহাড়িদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পর সেখানে সেনাবাহিনী ও বিজিবির উপস্থিতির পাশাপাশি মোটর সাইকেলযোগে প্রায় ২০০ জনের মতো সেটলার বাঙালি গিয়ে অবস্থান নেয়। ফলে স্থানীয় নিরীহ পাহাড়ি জনগণ নতুন করে হামলার আশঙ্কায় চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে গোয়ালঘরের মালিক মো. বারেক ওরফে খোকন সোনা মশা-মাছির উপদ্রব থেকে গবাদিপশুদের রক্ষা করতে ধোঁয়া সৃষ্টির জন্য প্রতিদিনের মতো আগুন জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু ঘুম থেকে জেগে দেখেন গোয়ালঘরে আগুন লেগেছে। এরপর খবর পেয়ে আশে-পাশের লোকজন সেখানে ছুটে যান। এ সময় তিনি ধোঁয়া সৃষ্টির জন্য জ্বালানো আগুন থেকে অসাবধানবশত অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে উপস্থিত লোকজনকে জানান।
সে সময় উপস্থিত হওয়া লোকজনের মধ্যে ছিলেন- ১. মো. সাব্দান হোসেন, গ্ৰাম পুলিশ, ২. ইউনুস হোসেন, গরুকাটা, ৩. মো. আরিফুল, গরুকাটা, ৫. আমজাদ হোসেন, ৬. বাবলু, গরুকাটা ও ৭. কোকন ত্রিপুরা, গরুকাটা মন্দির সভাপতি।
কিন্তু সকালে রামগড় সদর থেকে একদল সেটলার বাঙালি সেখানে গিয়ে ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে শুরু করে। তারা পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনার জন্য ‘ইউপিডিএফ’ বা পাহাড়িদের দায়ি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে ঘটনার পর থেকে সেখানে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও সেটলারদের উপস্থিতি স্থানীয় পাহাড়িরা হামলার আশঙ্কায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন।
এলাকাবাসী যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে এবং পাহাড়িদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর ভূমিকার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ রিপোর্ট লেখার সময় (রাত ৮:৩০টা) সেনাবাহিনী, বিজিবি ও সেটলার বাঙালিরা ঘটনাস্থল থেকে চলে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে ৮টি গাড়িতে করে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গ্লোব বাগানের অফিস এলাকায় অবস্থান করার খবর জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৪ আগস্ট থেকে আজ ১৩ আগস্ট পর্যন্ত সেনাবাহিনী ও বিজিবি যৌথ ও পৃথক পৃথকভাবে রামগড়ের বিভিন্ন এলাকায় টহল অভিযান চালিয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
