শহীদ জুনান-রুবেল-ধনরঞ্জন-অনিকের স্মরণে রামগড়ে স্মরণসভা ও প্রদীপ প্রজ্বলন

0


রামগড় প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

“জনগণের জন্য যারা জীবন দেন তারা অমর” এই শ্লোগানে স্বজাতির বসতি রক্ষার্থে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ জুনান, রুবেল, ধনরঞ্জন ও অনিকের স্মরণে খাগড়াছড়ির রামগড়ে স্মরণসভা ও প্রদীপ প্রজ্বলন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

শুরুতে শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পিসিপির রামগড় উপজেলা শাখার সদস্য প্রেমালি ত্রিপুরার সঞ্চালনায় ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সদস্য সংগীতা চাকমার স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে স্মরণসভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন পিসিপির রামগড় উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সুরেশ ত্রিপুরা, ইউপিডিএফ সংগঠক অর্জুন ত্রিপুরা ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের রামগড় উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক নতুন কুমার ত্রিপুরা।

ইউপিডিএফ সংগঠক অর্জুন ত্রিপুরা বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সাম্প্রদায়িক হামলার সময় ধন রঞ্জন চাকমাকে সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে মধ্যযুগীয় নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে। একই দিন খাগড়াছড়ি সদরে স্বজাতির বসতি রক্ষা করতে গিয়ে সেনাবাহিনীর নির্বিচার গুলিতে জুনান চাকমা ও রুবেল ত্রিপুরা নিহত হন। এর পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর রাঙামাটিতে সাম্প্রদায়িক হামলা চালিয়ে সেটলার বাঙালিরা অনিক চাকমাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

দুই বছরেও এ ঘটনার বিচার না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই ঘাতকরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই বর্বরোচিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত সেনা-সেটলারদের ও তাদের নির্দেশদাতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সুরেশ ত্রিপুরা তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সেটলার বাঙালি ও শাসকগোষ্ঠীর কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহল পাহাড়িদের নিজেদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে একচেটিয়া আধিপত্য কায়েম করতে চায়। জুনান, রুবেল, ধন রঞ্জন ও অনিকে হত্যার মূল উদ্দেশ্যই হলো আমাদের পাহাড়িদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত রাখা। তরুণ সমাজকে বুঝতে হবে আমাদের অস্তিত্ব আজ চরম হুমকির মুখে। তাই নিজেদের জমি, ইতিহাস ও আত্মপরিচয় রক্ষায় সচেতন হতে হবে এবং আন্দোলনে সামিল হতে হবে। শহীদদের রক্ত আমরা কখনো বৃথা যেতে দিতে পারি না।

স্বাগত বক্তব্যদানকালে সংগীতা চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। প্রকাশ্য দিবালোকে সেটলার বাঙালিরা যখন পাহাড়িদের ওপর হামলা এবং সেনাবাহিনী নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে হত্যাকাণ্ড ঘটালেও তার কোনো বিচার আমরা পাই না। এই বিচার না হওয়ার কারণে পাহাড়িদের ওপর বার বার হামলার ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। তিনি জুনান, রুবেল, ধন রঞ্জন ও অনিকের হত্যাকারীদের অতি দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

যুবনেতা নতুন কুমার ত্রিপুরা বলেন, “পাহাড়ে সেটলারদের হামলা ও ভূমি বেদখল  একসূত্রে গাঁথা। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সরকার-প্রশাসন তদন্তের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে সুষ্ঠু তদন্ত যেমন হয় না, একইভাবে কোনো বিচারও হয় না।

তিনি বলেন, পাহাড়িদের প্রত্যেকের জীবনের মূল্য রয়েছে। তাই অন্যায়ের আমাদের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। তরুণ সমাজ ও সর্বস্তরের জনগণকে একসাথে দাঁড়িয়ে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আমরা শহীদদের রক্ত কখনো বৃথা যেতে দেবো না।

স্মরণসভা শেষে শহীদের স্মরণে প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়। এতে সভায় উপস্থিত সকলে মোমবাতি জ্বালিয়ে শহীদদের গভীরভাবে স্মরণ করেন।




This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More