পিসিপি’র ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চবিতে আলোচনা সভা

0

জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে ছাত্রসমাজকে একাত্ম হতে হবে : সোহেল চাকমা


চবি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সোমবার (১৮ মে ২০২৬) বিকাল ৫টার সময় পিসিপির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও মহানগর শাখার যৌথ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্ত্বরে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় পিসিপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সোহেল চাকমা জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে ছাত্রসমাজকে একাত্ম হওয়ার আহ্বান জানান।

পিসিপির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি অংহ্লাচিং মারমার সভাপতিত্বে ও চবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমার সঞ্চালায় সভায় বক্তব্য রাখেন পিসিপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সোহেল চাকমা। এতে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি ধ্রুব বড়ুয়া।

‎আলোচনা সভা শুরুতে নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষে শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।


সভায় ছাত্রনেতা সোহেল চাকমা বলেন, ১৯৮০ সালে এরশাদ শাসমনামলে দমন-পীড়নের কারণে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামতে পারতো না। তবুও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে নানা কার্যক্রম চালাতেন। সেসময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পার্বত্য জনমানুষের ওপর শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়নের চিত্র হিল লিটারেচার ফোরাম, রাডার ম্যাগাজিনের মাধ্যমে বিভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরতেন। এসব তেতো সত্য ও অত্যাচারের ঘটনা তুলে ধরার জন্য নিষিদ্ধ হয় রাডার ম্যাগাজিন। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধিবাসীগণ মোঘল আমল থেকে শুরু করে ব্রিটিশ, পাকিস্তানের সময়কালেও সংগ্রাম করেছিল। বর্তমান বাংলাদেশ সেনা-শাসকগোষ্ঠীর শত নিপীড়ন নির্যাতনের বিরুদ্ধেও সংগ্রাম করছে। এ অঞ্চলের মানুষ সবসময় নিগৃহীত হয়েছে, অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে কিন্তু কখনো শাসকগোষ্ঠীর কাছে মাথানত করেনি। আমাদের দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের ইতিহাস রয়েছে। বর্তমান সময়ে শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করতে গিয়ে তেজোদীপ্ত ছাত্রনেতা বিপুল, সুনিল, লিটন, রমেলদের জীবন দিতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিভীষিকাময় লংগদু গণহত্যার প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে তৎকালীন বুয়েটে ২০০২ নং কক্ষে জন্ম নেয়া পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ আপোষহীনভাবে সংগ্রামের ৩৭ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ৩৭ বছরে শাসকগোষ্ঠী পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সংগ্রামকে ভেস্তে দিতে যা কিছু করা প্রয়োজন সবই করেছে। কিন্তু পাহাড়ি ছাত্র পরিষদকে দমিয়ে রাখা যায়নি। আমাদের মনে রাখতে হবে যে জাতি রক্ত দিতে পারে, সে জাতি ইতিহাস রচনা করতে পারে। রক্ত দেওয়ার ইতিহাস পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের রয়েছে।


গৌরবময় সংগ্রামে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নাম ভাঙিয়ে যারা শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে আঁতাত করছে, বিভিন্নভাবে শাসক-সরকারের কাছ থেকে সুবিধা নিচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধেও ছাত্রদের সংগ্রাম জারী রাখতে হবে। ছাত্রসমাজের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনকে দুর্বল করতে পিসিপি’র নাম ভাঙানো প্রতিক্রিয়াশীল গ্রুপগুলোর শিক্ষার্থীদের বিরাজনীতিকরণের শাসকগোষ্ঠীর কৌশল বাস্তবায়ন হতে দেয়া যাবেনা। তিনি ছাত্র সমাজকে আপোষকামীতা, সুবিধাবাদীতা পরিহার করে জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে একাত্ম হওয়ার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে অংহ্লাচিং মারমা বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনীতির পটপরিবর্তন হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের দমন-পীড়নের চিত্র বদল হয়নি। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেও পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের পদাঙ্ক অনুসরণ করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক প্রতিনিয়ত দমন-পীড়ন ও নির্যাতন আরো তীব্র হয়েছে। পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষের পক্ষে আছে এবং আগামী দিনেও ছাত্র সমাজকে সাথে নিয়ে আন্দোলন করবে।

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সামিল হতে ছাত্রসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বৃহত্তর স্বার্থে বর্তমান ছাত্রসমাজকে লড়াই সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে হবে। লড়াই সংগ্রাম ছাড়া কোন জাতি অধিকার আদায় করতে পারে না।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More