সরকারপন্থীদের’ পরাস্ত করে ছাত্র আন্দোলন এগিয়ে নিতে হবে- খাগড়াছড়িতে পিসিপি’র আলোচনা সভায় বক্তারা

0

রাঙামাটিতে গ্রাফিতি অঙ্কন 

খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

পিসিপি’র গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যে কালিমা লেপনকারী ‘সরকারপন্থীদের’ পরাস্ত করতে প্রকৃত সংগ্রামীদের দায়িত্ব ও করণীয় শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা করেছে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখা। বর্তমান সময়ের বিচারে এ আলোচনাকে অত্যন্ত যুগোপযোগী বলে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা মন্তব্য করেছেন।

আলোচনা সভায় পিসিপি’র জেলা কমিটির নেতা জেকিন চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের খাগড়াছড়ি জেলা আহ্বায়ক এন্টি চাকমা ও পিসিপি’র জেলা শাখার সভাপতি তৃষ্ণাঙ্কর চাকমা।

সভায় তৃষ্ণাঙ্কর চাকমা তার দীর্ঘ বক্তব্যে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের নিকট আত্মসমর্পণের ক্ষেত্র প্রস্তুত করার অংশ হিসেবে জেএসএস প্রতিবাদী ছাত্রসমাজকে বিভক্ত ও দুর্বল করার চক্রান্ত করে। নীলনক্সা অনুযায়ী পিসিপি’র ঐক্যের দুর্গ ভেঙ্গে দিতে সন্তু লারমা টোপ ফেলে ছাত্র নামধারী সুযোগসন্ধানী ধান্দাবাজ দালাল জুটিয়ে নেয়। সন্তু লারমার খপ্পরে পড়ে পলাশ, প্রণয়, মৃগাঙ্গ ও থোয়াইঅং চক্র পিসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনা অমান্য করতে থাকে। এক পর্যায়ে সে বছর ৩০ জুন এই চক্রটি চট্টগ্রামে লোক দেখানো ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ৭ম কাউন্সিল সম্মেলন আয়োজন করে।

অথচ তার আগে অর্থাৎ ১৯৯৭ সালে ১৭ জুন খাগড়াছড়ি খেজুর বাগানে পিসিপি’র ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ১৮-২০ জুন দক্ষিণ খবংপুজ্জায় ৭ম কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সম্পন্ন হয়। তৎকালীন আওয়ামী ঘরানার জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, ‘ খাগড়াছড়িতে যারা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও কাউন্সিল সম্মেলন করেছে তারা ‘উগ্রপন্থী’ (স্বায়ত্তশাসনপন্থী) আর চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও কাউন্সিল সম্মেলন আয়োজনকারীরা ‘সরকারপন্থী’। পিসিপি’র নাম ভাঙিয়ে সভা-সমাবেশ করার কারণে ‘সরকারপন্থীরা’ সাধারণ ছাত্রসমাজের কাছে ‘দুই নাম্বারি পিসিপি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

আলোচনা সভায় ছাত্রসমাজের উদ্দ্যেশ্যে বক্তারা আরও বলেন, ৯৭-এর সুবিধাবাদী আপোষকামী সন্তু চক্র পাহাড়ি জনগণের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়েছে। তারা একদিকে আপোষ করে সরকারের গৃহপালিত প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে দেশপ্রেমিক সাজতে মেকি আন্দোলনের বুলি আওড়িয়ে মুখে ফেনা তোলে। ছাত্রসমাজকে ‘সরকারপন্থীদের’ এ দ্বিচারিতার মুখোশ উন্মোচন করে দিতে হবে। সরকারপন্থী সকল প্রতিক্রিয়াশীলদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে পিসিপি’র হৃতগৌরব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে সভায় বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।

রাঙামাটিতে গ্রাফিতি অঙ্কন

এদিকে, সরকারপন্থীদের শায়েস্তা করার আহ্বান জানিয়ে রাঙামাটির কুদুকছড়িতে গ্রাফিতি অঙ্কন করেছে পিসিপি’র নেতা-কর্মীরা।  

গ্রাফিতিতে “সরকারপন্থীদের” কিভাবে শায়েস্তা হবে তা দেখানো হয়। এতে লেখা হয়, ‘সরকারপন্থীরা তেলাপোকার মত নিকৃষ্ট কীট তাদের পিষিয়ে মারতে হবে। পরিচ্ছন্নতার জন্য তাদের উৎখাত করা জরুরী।”


এ বিষয়ে পিসিপি’র জেলা সাধারণ সম্পাদক দিপায়ন চাকমা বলেন, ১৯৯৭ সালের ৩০ জুন পিসিপিকে চূড়ান্তভাবে বিভক্ত করার মধ্য দিয়ে ছাত্র আন্দোলনে কালিমালিপ্ত করেছে সরকারপন্থী দুই নাম্বারীরা। সন্তু লারমার প্ররোচনায় সরকারকে খুশী করতে পলাশ, প্রণয়, মৃগাঙ্গ ও থোয়াইঅং চক্র এদিন চট্টগ্রামে ২ নাম্বারী পিসিপি গঠন করে সরকারপন্থী হিসেবে আখ্যায়িত হয়। তিনি সরকারপন্থীদের পরাস্ত করতে প্রকৃত সংগ্রামীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More