সাজেকের উজোবাজারে সেনাবাহিনী কর্তৃক বাবুধন চাকমাসহ কয়েকজনের বাড়ি ঘেরাও, তল্লাশির অভিযোগ

সাজেক প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
রাঙামাটির সাজেকের উজোবাজারে সেনাবাহিনীর সদস্যর সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চকামাসহ কয়েকজনের বাসা-বাড়ি ঘেরাও, তল্লাশি ও গ্রেফতারের ভয় দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, গত মধ্যরাত আনুমানিক ১২:৪০টার সময় বাঘাইহাট সেনা জোন থেকে ৫০-৬০ সেনা সদস্য গাড়িযোগে গিয়ে উজোবাজারে হানা দেয়। এ সময় সেনারা সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা, একই সংগঠনের বিজয় কান্তি চাকমা এবং সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ কমিটির সহ-আহ্বায়ক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর মিলন চাকমার বাসা-বাড়ি ঘেরাও করে তল্লাশির নামে হয়রানি করে। তারা সকলে উজোবাজারে দোকান দিয়ে ব্যবসা করে থাকেন।
ভুক্তভোগী বাবুধন চাকমা জানান, আমি পরিবারসহ উজোবাজার দোকান ঘরে থাকি। গত রাতে আমি বাড়িতে ছিলাম না। সেনাবাহিনীর সদস্যরা আমার দোকান ঘরের দরজা ভেঙে ঢুকে। তখন আমার স্ত্রী ঘরে ছিল। সেনারা পুরো দোকান ও যে রুমে আমরা থাকি তা তল্লাশি করে। তবে অবৈধ কোন কিছু না পেয়ে তারা আমার স্ত্রীকে হুমকি দিয়ে বলে যায় যে, আগামীকাল বাবুধন চাকমাকে যেখানে পাই গ্রেফতার করা হবে।
সেনারা তার বাসা থেকে সভা-সমাবেশে ব্যবহৃত ৪টি হ্যান্ড মাইক নিয়ে গেছে বলে তিনি জানান।
বিজয় কান্তি চাকমা জনান, সেনাবাহিনীর সদস্যরা আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলে ঘর তল্লাশি করে। কিন্তু অবৈধ কোন কিছু না পেয়ে ‘আজকের সড়ক অবরোধে যেন রাস্তায় না থাকি” এমন হুমকি দিয়ে চলে যায়।
মিলন চাকমা আজ ভোর ৪টা ৯ মিনিটে নিজেই ফেসবুকে লাইভে এসে তার বাড়িতে সেনাবাহিনীর হামলার অভিযোগে করে বলেছেন, গত রাত ১২:৪০টার সময় ৫০ জনের অধিক সেনাবাহিনীর সদস্য তার বাড়িতে গিয়ে জোরে জোরে দরজায় ধাক্কা দেয়। পরে ১:৩০টার সময় দরজার লক ভেঙে গেলে সেনা সদস্যরা বাড়ির ভিতর প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় তার স্ত্রী দরজায় দাঁড়িয়ে বাধা দেয়ায় তারা প্রবেশ করতে পারেনি। তখন তার স্ত্রীর সাথে সেনা সদস্যদের অনেক কথা কাটাকাটি হয়। তখন সেনারা তার স্ত্রীকে বলে যে, ‘মিলন নাকি সারাদিন “অস্ত্র” নিয়ে ঘোরাফেরা করেছে। এ সময় তার ছেলে আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন বেল তিনি জানান।

লাইভে মিলন চাকমা চ্যালেঞ্জ করে বলেন, “গতকাল আমি সারাদিন আমার দোকানে দোকানদারি করেছিলাম। কে দেখেছে আমাকে অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করতে? আপনারা শুধু শুধু একজন সাধারণ মানুষকে এভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে হয়রানি করতে পারেন না। ‘সন্ত্রাসী’ ট্যাগ লাগিয়ে দিয়ে একজন নিরপরাধ মানুষকে কেন আপনারা ধরতে আসবেন তার জবাব আমি সেনাবাহিনীর কাছ থেকে চাই।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে ডাকাতি-সন্ত্রাসীর কায়দায় বাসা-বাড়ি তল্লাশির নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। দেশটাকে কী মগের মল্লুক পেয়েছেন?’
তিনি আরও বলেন, ‘সেনাবাহিনী বলেছে, আমাকে নাকি অস্ত্র গুজে দিয়ে সন্ত্রাসী বানিয়ে অস্ত্র মামলা দিয়ে জেলের ভাত খাওয়াবে। আপনারা এভাবে সাধারণ মানুষকে অস্ত্র গুজে দিয়ে জেলে পাঠিয়েছেন সে ধরনের অনেক প্রমাণ আছে। অথচ তারাই সন্ত্রাসীদের তারা লালন-পালন করছে। কিন্তু তাদেরকে না ধরে আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে।”
সেনারা রাত ২টায় তার বাড়ি থেকে চলে যায় বলে তিনি জানান।
বর্তমানে উজোবাজারে সেনাবাহিনী অবস্থান করছে। লোকজনকে উজোবাজারে আসতে দিচ্ছে না। অপরদিকে, মাজলঙ থেকেও কোন লোকজনকে উজোবাজাারের দিকে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। যারা আসতে চাচ্ছে তাদেরকে মাজলঙ সেনা ক্যাম্পে আটকে দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দ সাজেকে অশান্তি সৃষ্টিকারী জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সরিয়ে নিতে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয় এবং দাবি মানা না হলে আজ (১০ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেক পর্যটন সড়ক অবরোধের ডাক দেয়। কিন্তু সন্ত্রাসীদের এখনো সরিয়ে নেওয়া হয়নি। ফলে আজ দুপুর ১২টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালিত হবে।
উক্ত অবরোধ কর্মসূচি বানচাল করে দেয়ার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী এমন হয়রানিমূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
এদিকে, অবরোধ কর্মসূচি বানচাল করে দেয়ার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী দীঘিনালা থেকে ঠ্যাঙাড়ে (মুখোশ) সন্ত্রাসীদের উজোবাজারে আনার পরিকল্পনা করছে বলেও একটি সূত্রে খবর পাওয়া গেছে।
সেনাবাহিনীর এমন নিপীড়ন ও হয়রানিমূলক তৎপরতায় জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য সেনাবাহিনীকে সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
