সাজেকের ভূয়োছড়িতে সেনাবাহিনী কর্তৃক খেতের ফসল ও মাছ লুট

0
সেনা সদস্যরা ইঞ্জিনচালিত বোট যোগে ভূয়োছড়ির দিকে যাচ্ছে।

সাজেক প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

রাঙামাটির সাজেকের ভূয়োছড়িতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সাধারণ জনগণের খেতের ফসল ও পুকুরের মাছ লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ খবর সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে সেনাদের একটি দল ভূয়োছড়ি গ্রামের কার্বারী স্নেহ কুমার চাকমাকে লাঞ্ছিত করেছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন ২০২৬) সকালে বাঘাইহাট জোন থেকে মাসুমের নেতৃত্বে ১১ জনের একটি সেনাদল ইঞ্জিন চালিত বোট যোগে ভূয়োছড়িতে যায় এবং গ্রামের প্রতিষ্ঠিত সমিতির বাগান থেকে কলাছড়া, আম ও পুকুর থেকে ১০ কেজির মতো মাছ লুট করে নিয়ে যায়।

এছাড়া সেনারা হিরাবো চাকমার ৩টি হাঁসও নেয়ার জন্য বোটে তোলে। তবে প্রতিবাদের মুখে কমান্ডার মাসুম হাঁসগুলো রেখে দিয়ে যান।

মাসুমের র‌্যাংক সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে তিনি ইতিপূর্বে মাচালং ক্যাম্পের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বর্তমানে তিনি বাঘাইহাট জোনে আছেন।

উল্লেখ্য, গতকালও সেনাবাহিনীর ৪০ জনের একটি দল ভূয়োছড়িতে যায়। তারা আজও সেখানকার প্রাইমারী স্কুলে অবস্থান করছে। তাদের একটি টিম আজ যাওয়া ১১ জনের সেনা টিমটির সাথে যোগ দিয়ে লুটপাটে অংশ নেয় বলে গ্রামবাসীরা জানিয়েছে।

ভূয়োছড়ি গ্রামের কার্বারি স্নেহ কুমার চাকমা কমান্ডার মাসুমের কাছে লুটপাটের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি তাকে বলেন, ‘আপনারা যদি এভাবে আমাদের খেতের ফসল, পুকুরের মাছ নিয়ে যান, তাহলে আমরা কীভাবে বাঁচবো?’

স্নেহ কুমার চাকমা গত এপ্রিল মাসে বৈসাবি উৎসবের আগে একই কায়দায় লুটের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, ‘সে সময়ও আপনারা আমাদের সমিতির পুকুরের মাছ সাবার করে নিয়ে গিয়েছিলেন। বাগানের পেঁপে, ডাব, কলা, শাকসবজি ইত্যাদি খেয়ে দিয়েছিলেন।’

এ সময় মাসুম জানান তিনি গত এপ্রিল মাসে ছুটিতে বগুড়ায় ছিলেন, কাজেই সে সময় কী ঘটেছে তা তিনি জানেন না। তিনি ঘটনা তদন্ত করে দেখবেন বলে জানান।

গ্রামের এক মুরুব্বী সিএইচটি নিউজকে জানান, সেনাদের স্কুল ভবনে অবস্থানের কারণে স্কুলের পাঠদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। তিনি গ্রামবাসীদের চাষের ফসল লুটপাট বন্ধ এবং লুণ্ঠিত দ্রব্যের ন্যায্য মূল্য পরিশোধ করার দাবি জানান।

সর্বশেষ জানা গেছে, আজকের লুটের ঘটনাটি সোস্যাল মিডিয়ায় প্রচার হওয়ার পর সেনাবাহিনীর একটি দল বিকেলের দিকে গ্রামের কার্বারি স্নেহ কুমার চাকমার কাছে যায় এবং তাকে এর জন্য দায়ি করে হুমকি দেয়।

সেনারা তাকে বলে, ‘আমরা পুকুর থেকে (মাছ ধরার পর) আসতে না আসতেই কীভাবে অন্যেরা জানতে পেরেছে, কীভাবে সোস্যাল মিডিয়ায় খবরটি গেলো। তুমিই ইউপিডিএফকে সব খবর দাও ।’

এরপর তারা তাকে ক্যাম্পে যেতে হবে বলে ভয় দেখায়। স্নেহ কুমার চাকমা বলেন ক্যাম্পে যেতে হলে তিনি যাবেন, তাতে তার কোন আপত্তি নেই।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More