কারাবন্দি বম নাগরিকদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রামে তিন সংগঠনের বিক্ষোভ

0

চট্টগ্রাম, সিএইচটি নিউজ
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

বিনা বিচারে ৮০০ দিন কারাবন্দি নিরপরাধ সকল বম নাগরিকদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন, চট্টগ্রাম মহানগর শাখা।

আজ বুধবার (১৭ জুন ২০২৬) বিকাল ৫টায় চট্টগ্রাম নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড় থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি অংহ্লাচিং মারমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শুভ চাক ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সদস্য রেশমি মারমা।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে বান্দরবানে ব্যাংক ডাকাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণহারে বম জাতিসত্তার সাধারণ নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এদের মধ্যে অনেকে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেলেও বর্তমানে তিন নারীসহ ৮০ জন বম নাগরিক বিনাবিচারে কারাগারে বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এছাড়া ইতিপূর্বে কারাগারে বন্দি অবস্থায় লালত্লেং কিম বম, ভান লাল রোয়াল বম, লালসাং ময় বম নামে তিন জন মারা গেছেন।

বক্তারা বলেন, দেশে বর্তমানে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। এ সরকার দেশের সকল নাগরিকদের নিয়ে দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও সেই সম্ভাবনা আমরা দেখছি না। বিগত সরকারের ন্যায় বর্তমান তারেক রহমানের সরকারও পার্বত্য চট্টগ্রামকে সেনাবাহিনী চোখে দেখছে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাশাসন বহাল রেখেছে। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতিনিয়ত খুন, গুম, হত্যার ঘটনা ঘটছে। সেনা অভিযানের নামে সাধারণ পাহাড়িদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন, প্রতিনিয়ত ঘরবাড়িতে তল্লাশি-হয়রানিসহ নানা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সংঘটিত করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় সরকার নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

বক্তারা বম জাতির নাগরিকদের ওপর রাষ্ট্রের এই অবর্ণনীয় নির্যাতন, দমন-পীড়ন, হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে নারীসহ বিনা বিচারে কারাগারে বন্দি বম নাগরিকদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাশাসন তুলে নিয়ে সেনা অভিযানের নামে জনগণের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন বন্ধের জোর দাবি জানান।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More