সাজেকে সড়ক অবরোধ পালনকারী জনতার ওপর সেনা হামলার প্রতিবাদে রামগড়ে বিক্ষোভ

রামগড় প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
রাঙামাটির সাজেকের উজোবাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ পালনকারী জনতার ওপর সেনাবাহিনীর হামলা, লাঠিচার্জ ও গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে খাগড়াছড়ির রামগড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১১টায় বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম (ডিওয়াইএফ) ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন-এর রামগড় উপজেলা শাখাসমূহের যৌথ উদ্যোগে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। মিছিলে তিন সংগঠনের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা সাজেকে সেনা হামলার বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দেন।
মিছিলটি তৈচাকমা পাড়ার হরি মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে তৈচাকমা পাড়ার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে তৈচাকমা পাড়ার তিন রাস্তার মোড়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

মিছিল পরবর্তী সমাবেশে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের (ডিওয়াইএফ) খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সদস্য রিকেন চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন পিসিপির রামগড় উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ধনমোহন ত্রিপুরা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের রামগড় উপজেলা শাখার সদস্য প্রেমালি ত্রিপুরা।
ধন মোহন ত্রিপুরা বলেন, “সাজেকের মাচলঙ এলাকায় বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সরানোর দাবিতে গতকাল সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন-এর ব্যানারে সাজেকের জনগণ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছিল। কিন্তু সেনাবাহিনী ও প্রশাসন জনগণের অত্যন্ত কাপুরুষোচিতভাবে অবরোধ পালনকারী জনতার ওপর হামলা, লাঠিচার্জ ও গুলিবর্ষণ করে বহু নারী-পুরুষকে আহত করেছে। প্রশাসন আজ জনগণের নিরাপত্তা দেওয়ার পরিবর্তে দমনপীড়ন চালানোর হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। সাজেকে নিরীহ জনগণের ওপর এই হামলার তারেক রহমানের সরকার ও প্রশাসনকে বহন করতে হবে।
প্রেমালি ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ে আজ জেএসএস সন্তু গ্রুপসহ ঠ্যাঙাড়ে সন্ত্রাসীদের রক্ষা করতে এবং জনগণের নায্য আন্দোলন দমনের জন্য সেনাবাহিনী ও প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে। সাজেকে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী সাধারণ নারী ও পুরুষদের ওপর সেনাবাহিনীর হামলা চালিয়ে সেনাবাহিনী মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন করেছে। এই হামলায় প্রমাণ করেছে জনগণের আন্দোলন স্তব্ধ করে দেয়ার মাধ্যমে সেনাবাহিনী ও সন্তু লারমার জেএসএসের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা মিলিতভাবে সাজেক এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার ষড়যন্ত্র করছে।

তিনি বলেন, অবিলম্বে সাজেকে হামলার সাথে জড়িত সেনা কর্মকর্তাসহ সদস্যদের আইনের আওতায় এনে বিচার ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় পাহাড়ি নারীসহ প্রতিবাদী জনতা ঘরে বসে থাকবে না। রাজপথে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে রিকেন চাকমা সাজেকে সেনা হামলাকে ন্যাক্কারজনক উল্লেখ করে বলেন, সেনাবাহিনী সাাজেকে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের রক্ষার জন্য গতকাল অবরোধ পালনকারী জনতার ওপর বর্বর হামলা চালিয়েছে। তারা জনতার ওপর যেভাবে হামলা ও লাঠিচার্জ করে তা পাহাড়ে সেনাশাসনের নগ্ন চরিত্রকে উন্মোচন করে দিয়েছে। কাজেই, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাশাসন তুলে নিয়ে প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনীকে দিয়ে হামলা, দমন-পীড়ন চালিয়ে পাহাড়ি জনগণের ন্যায্য আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। যতই দমন-পীড়ন চালানো হবে ততই পাহাড়ের মুক্তিকামী জনতা লড়াই-সংগ্রাম জোরদার করবে।
তিনি অবিলম্বে সাজেকে অবরোধকারীদের ওপর হামলায় জড়িত সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও আহতদের সুচিকিৎসা এবং সাধারণ জনগণের ওপর নিপীড়ন-হয়রানি বন্ধের জোর দাবি জানান।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
