সাজেকে বৃহস্পতিবারের সেনা হামলায় আহত অন্তত ৭৮ জন, আতঙ্কে এলাকাবাসী

0
গতকাল বৃহস্পতিবার সাজেকে সেনাবাহিনীর হামলায় আহতদের কয়েকজন।


বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

রাঙামাটির সাজেক ইউনিয়নের উজোবাজার এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ পালনকালে সেনাবাহিনীর পরিকল্পিত হামলায় বেশ কয়েকজন গুরুতর আহতসহ অন্তত ৭৮ জন নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর থেকে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন এলাকাবাসী। বন্ধ রয়েছে উজোবাজারের দোকানপাট।

এদিকে, আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) সকালে সেনাবাহিনীর সদস্যরা উজোবাজারে ঈশ্বর চন্দ্র চাকমা নামে একজনের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ তিন দফা দাবি বা শর্ত প্রশাসন বাস্তবায়ন না করায় সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের ডাকে বৃহস্পতিবার তৃতীয় দফায় শান্তিপূর্ণভাবে সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছিল এলাকার সর্বস্তরের জনতা। সকাল ১১টার দিকে সেনাবাহিনী পর্যটকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অবরোধ পালনকারীদের ওপর হামলা, বেপরোয়া লাঠিচার্জ ও গুলিবর্ষণ করলে জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সেনারা অবরোধে অংশগ্রহণকারীসহ যাকে সামনে পেয়েছে তাাদের ওপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ করে। এতে নারী এবং শিশু-কিশোর কেউই রেহাই পায়নি। শুধু তাই নয়, সেনারা কথিত গোলাগুলির নাটক সাজিয়ে এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে গুলিবর্ষণ করে জনমনে চরম ভীতি সঞ্চার করে। এতে মুহুর্তের মধ্যে উজোবাজার ও আশে-পাশের এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়ে। হামলার ভয়ে মানুষ দোকানপাট, ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

সেনাদের এই বর্বরোচিত হামলায় অন্তত ৭৮ জন নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। এ সংখ্যা আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন। আহতদের মধ্যে অনেকে হাত ভেঙে গেছে, অনেকে পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন, লাঠির আঘাতে অনেকের শরীরে বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমে কালো হয়ে গেছে।

সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারী এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন, সেনাবাহিনীর এই হামলা ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। তারা পর্যটকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এই হামলার পরিকল্পনা সাজিয়েছিল। অথচ সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারী এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কর্মসূচির আগের দিন সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সাজেক ভ্যালী পর্যটন কেন্দ্র ছাড়ার জন্য পর্যটকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেনাবাহিনী রাষ্ট্রীয় কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে সাজেক পর্যটন থেকে সরিয়ে নিলেও বাকী পর্যটকদেরকে না সরিয়ে অবরোধের দিন জনতার সাথে মুখোমুখি করিয়ে হামলা চালিয়েছে।

তারা বলেন, গত ১১ অক্টোবর অবরোধ শুরুর দিন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের কাছে আমরা সুস্পষ্টভাবে তিন দফা দাবি বা শর্ত দিয়েছিলাম। সেদিন তারা সেইসব শর্ত মেনে নিয়েছিল। কিন্তু তারা সেগুলো বাস্তাবায়ন না করে বরং জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের রক্ষায় মরিয়া প্রচেষ্টা চালিয়েছে। ফলে আমরা ১৫ অক্টোবর অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছিলম। পরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬-২১ অক্টোবর পর্যন্ত আমরা অবরোধ স্থগিত করেছিলাম। আমরা ভেবেছিলাম প্রশাষন এর মধ্যে তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু তারা সেটা না করায় পুনরায় ২২ অক্টোবর থেকে অবরোধ কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি।

তাদের অভিযোগ, মূলত সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোনের কর্মকর্তারাই জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। ফলে তাদের রক্ষা করতেই অবরোধ পালনকারী জনতার ওপর তারা হামলা চালিয়েছে।

দুই সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে জনগণের ওপর নিপীড়ন-হয়রানি বন্ধ করা, সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক হামলার সাথে জড়িত সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও তাদের তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে উদ্ভুত সমস্যার যথাযথ সমাধান করার জন্যও সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রাতি আহবান জানিয়েছেন।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More