পানছড়ি সীমান্তে জায়গা দখল করে বিজিবির ৩টি ক্যাম্প স্থাপনের অভিযোগ

0

পানছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার সীমান্ত সড়ক এলাকায় স্থানীয় পাহাড়িদের জায়গা দখল করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ৩টি ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিজিবি’র লোগাং জোন (৩ বিজিবি) এই ক্যাম্পগুলো স্থাপনের কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ক্যাম্প স্থাপনের পূর্বে জায়গার মালিকদের সাথে কোনো আলোচনা না করেই বাগানের গাছ কেটে ফেলা এবং বুলডোজার দিয়ে মাটি সমান করার অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খেদারাছড়া শেষ মাথায় যে জায়গায় বিজিবি ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে, সেই জায়গার মালিক হলেন জয়ন্ত মনি চাকমা (৩৫), পিতা: কাট্টল্যা চাকমা। তিনি ১নং লোগাং ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মধুরাম পাড়া (খেদারাছড়া) গ্রামের বাসিন্দা।

ধুধুকছড়া শেষ মাথায় ক্যাম্প স্থাপনের জন্য ব্যবহৃত জমির মালিকের নাম দেবরতন চাকমা (৩৫), পিতা: মৃত ধন্যমনি চাকমা। তিনি ১নং লোগাং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের উত্তর ধুধুকছড়া গ্রামের বাসিন্দা।

অন্যদিকে, শিলছড়ি (ট্রিগহাইট) এলাকায় যে জায়গায় ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে, সেই জায়গার মালিক বর্ণমনি ত্রিপুরা (২৫), পিতা: চান মোহন ত্রিপুরা। তিনি ৩নং পানছড়ি ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের শিলছড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

জায়গার মালিকদের অভিযোগ, বিজিবি কর্তৃপক্ষ তাদের সাথে কোনো প্রকার পূর্ব আলোচনা বা সম্মতি ছাড়াই এই ক্যাম্প স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ক্যাম্পের জন্য নির্ধারিত জায়গাগুলোতে থাকা তাদের সৃজিত বাগানের মূল্যবান সেগুন গাছসহ অন্যান্য গাছপালা কেটে সাবাড় করা হয়েছে এবং বুলডোজার দিয়ে পাহাড় ও মাটি কেটে জায়গাগুলো সমান করে ক্যাম্পের জন্য ঘর তৈরি করা হচ্ছে।

এদিকে, বিনা নোটিশে এবং জোরপূর্বক জমি দখল করে বিজিবির এই ক্যাম্প স্থাপনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। নিজেদের বসতভিটা ও ভোগদখলীয় জায়গা-জমি হারানোর শঙ্কায় সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।




This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More