পানছড়ির তারাবন ভাবনাকেন্দ্র এলাকায় সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অবস্থান, এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ

পানছড়ি প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার ২নং চেঙ্গী ইউনয়নের তারাবন ভাবনাকেন্দ্র (বিহার)-এর আশে-পাশেসহ কয়েকটি স্থানে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অবস্থান করায় এলাকার জনমনে আতঙ্ক, উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সন্ত্রাসীদের অবস্থানের কারণে ভয়ে এলাকার লোকজন (দায়ক-দায়িকা) ভাবনাকেন্দ্রে যেতে পারছে না। ফলে সেখানে অবস্থানরত বৌদ্ধ ভিক্ষুরা চরম অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এছাড়া সন্ত্রাসীরা ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের লাইন কেটে দেওয়ায় যোগাযোগের ক্ষেত্রেও অসুবিধায় পড়েছেন এলাকাবাসী।
তারাবন ভাবনাকেন্দ্রের অধ্যক্ষ হতাশাগ্রস্ত হয়ে ফেসবুকে একটি সংক্ষিপ্ত পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি চাকমা ভাষায় লেখেন, “বেক নীরব, হন পরান বলা এই ন পারন দরে…” (অর্থাৎ সবদিকে নীরব, ভয়ে কোন মানুষ আসতে পারেনি..)।
এ বিষয়ে তাঁর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আতঙ্কে সকাল থেকে কোনো দায়ক-দায়িকা (যারা ভিক্ষুদের জন্য ‘সিয়োং’ রান্না করতে যায়) আসেনি। আমরাও রুমের ভেতর থেকে বের হতে পারছি না। ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের লাইনও কেটে দেওয়া হয়েছে। সবার ফোন বন্ধ। কাউকে কল দিয়ে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে নাকি বন্ধ রেখেছে তাও জানি না।”
তিনি একটু বিরক্তি প্রকাশ করে বলেছেন, “তোমরা সুখি হও, আমাদের নিয়ে তোমাদের চিন্তা করতে হবে না, এই জাতির কাছে আমাদের আর কিছু বলার নেই।”
উল্লেখ্য, গতকাল (৩ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা জগপাড়া এলাকায় এসে অবস্থান নেয়। বর্তমানে সন্ত্রাসীরা তারাবন ভাবনা কেন্দ্র ও তারাবন গির্জা লাম্বু পাড়ার মূল রাস্তার পাশে, জগপাড়ার শেষ মাথা- হিজিংও মুড়ো, জগপাড়ার দোকান সংলগ্ন, জগপাড়া প্রাইমারি স্কুল এলাকায় বাঙ্কার বানিয়ে অবস্থান করছে। গতকাল থেকে সেখানে তারা এলোপাতাড়ি ব্রাশফায়ার করে এলাকার জনগণকে আতঙ্কিত করে রেখেছে।
সন্ত্রাসী দলটিতে পানছড়ি থেকে সন্তু গ্রুপের যোগ দেওয়া সঞ্জয় চাকমা, প্রতুত্তর চাকমা ও জলেয়্যে চাকমা তরুও (আগে ঠ্যাঙাড়ে বাহিনীর সর্দার) রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সন্ত্রাসীরা গতকাল ইউপিডিএফের এক কর্মীর বাড়িতে পালিত একটি গরু গুলি করে হত্যা করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলটি প্রকাশ্যে অবস্থান করলেও প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় জনমনে নানা প্রশ্ন, ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সেনাবাহিনীর একটি কায়েমি স্বার্থবাদী অংশ সন্তু গ্রুপকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা প্রদান করছে- এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এবার সন্ত্রাসীদের তারাবন ও জগপাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে সশস্ত্র আবস্থানের ক্ষেত্রেও সেনাবাহিনীর যোগসাজশ রয়েছে বলে এলাকাবাসী ধারণা করছেন।
এলাকাবাসী অবিলম্বে সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
