পার্বত্য চট্টগ্রামে এসএসসি পরীক্ষা ফলাফলের চরম বিপর্যয়ে পিসিপি’র উদ্বেগ

0

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ ফলাফলের চরম বিপর্যয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)।

আজ সোমবার (১০ জুলাই ২০২৬) বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি সমর চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল চাকমা সংবাদ মাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ ফলাফল আজ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এতে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা স্কুলগুলোতে ফলাফলের চরম বিপর্যয় ঘটেছে। প্রকৃত অর্থে এই ফলাফলের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তব চিত্র ফুটে ওঠেছে। যা খুবই উদ্বেগজনক।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষার এ সংকট একদিনে তৈরী হয় নি। বছরের পর বছর জেলা পরিষদগুলো কর্তৃক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, শিক্ষার গুণগত মান হ্রাস, শিক্ষক সংকট , বর্গা শিক্ষক দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান, প্রান্তিক জায়গাগুলোতে পর্যাপ্ত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাদানের অভাব, প্রতিষ্ঠানের অনুন্নত অবকাঠামো, শ্রেণিকক্ষের অব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ না থাকাসহ বিভিন্ন কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষাব্যবস্থার চরম অবনতি ঘটেছে। প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার। এ অবস্থায় চলতে থাকলে আগামীতে পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষার দুরবস্থা আরো প্রকট আকার ধারণ করবে। যা দেশের সমৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়নেও ভয়াবহ অশনিসংকেত।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বৈষম্যমূলক শিক্ষাব্যবস্থা বন্ধ করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬২.২৫ শতাংশ। যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। তন্মধ্যে তিন পার্বত্য জেলায় শিক্ষার্থী পাসের হার সবচাইতে কম। খাগড়াছড়িতে ৩৪.৯৯%, রাঙামাটিতে ৪১.১৭% ও বান্দরবানে ৪৭.৮৮%। খাগড়াছড়ি জেলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভাইবোনছড়া গার্লস হাই স্কুল, জারুলছড়ি হেডম্যান পাড়া হাই স্কুল, তারাবানিয়া হাই স্কুল, মাটিরাঙ্গা ১০নং সেন্ট প্যাট্রিক আলুটিলা জুনিয়র হাই স্কুলে একজন পরিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষাব্যবস্থার এই ভয়াবহতা প্রমাণ করে পাহাড়ে বসবাসরত জনগোষ্ঠীগুলো শিক্ষাক্ষেত্রে কতটা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীগুলোকে জাতিগতভাবে পিছিয়ে রাখারও ষড়যন্ত্র।

নেতৃবৃন্দ, অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে রাষ্ট্রীয় সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ, যথাযথ পদক্ষেপ ও শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে যাবতীয় সংকট ও প্রতিবন্ধকতা নিরসন করে শিক্ষার মান উন্নয়ন করার দাবি জানান।



This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. AcceptRead More