রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক পাহাড়ি শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক, সিএইচটি নিউজ
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী লেবানন বম নিজ মেসে হামলা ও মারধরের শিকার হয়েছেন। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক ছাত্র হাসান ও তার স্ত্রীর হাতে তিনি এ হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলার সময় ভুক্তভোগীকে ‘পাহাড়ি’ ও ‘অসভ্য’ বলে সাম্প্রদায়িক গালিগালাজের পাশাপাশি বটি দিয়ে ‘জবাই’ করারও হুমকি দেওয়া হয় বলে লেবাননের সহপাঠীরা জানান।
আজ বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এক মেসে এই ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত সাবেক শিক্ষার্থী হাসানকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে চন্দ্রিমা থানায় হস্তান্তর করে। এ ঘটনায় চন্দ্রিমা থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর বরাতে তার সহপাঠীরা জানান, সকালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই মেসে থাকা গণিত বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র হাসান ও তার স্ত্রী ক্ষিপ্ত হয়ে লেবাননের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে আশপাশ থেকে লোক জড়ো করে লেবাননকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। হামলায় তার মুখ, গলা এবং পিঠে গুরুতর জখম হয়।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, হামলার সময় অভিযুক্তের স্ত্রী বটি খুঁজতে থাকে এবং তাকে ‘জবাই করে ফেলা’র হুমকি দেন এবং পাহাড়ি জাতির নিয়ে উগ্র ও সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করেন।
ঘটনার সময় কক্ষে উপস্থিত থাকা লেবাননের সহপাঠী ওসল চাকমা বিষয়টি জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী সুমন চাকমাকে জানান। পরবর্তীতে সুমন চাকমা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানকে অবহিত করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি আমলে নেয়।
ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত হাসান মেস ত্যাগ করেন। তবে ঘটনা জানাজানি হলে প্রক্টর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং শিক্ষার্থীদের অনুরোধে পুলিশ ডেকে হাসানকে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। উপস্থিত শিক্ষার্থীরা জানান, প্রক্টর কার্যালয়ে অবস্থানকালেও অভিযুক্তের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি, বরং তিনি উগ্র আচরণ করতে থাকেন। পরবর্তীতে লেবাননের বিভাগের সহপাঠীদের উপস্থিতিতে তাকে চন্দ্রিমা থানায় হস্তান্তর করা হয়।
পরে সহপাঠী শিক্ষার্থীরা চন্দ্রিমা থানায় গিয়ে প্রথমে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং পরবর্তীতে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা না করতে অভিযুক্তের পক্ষ থেকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করা হলেও শিক্ষার্থীদের দৃঢ় অবস্থান ও অভিজ্ঞদের পরামর্শে মামলার কার্যক্রম সম্পন্ন হয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
সিএইচটি নিউজে প্রকাশিত প্রচারিত কোন সংবাদ, তথ্য, ছবি ,ভিডিও, কনটেন্ট ব্যবহার করতে হলে কপিরাইট আইন অনুসরণ করে ব্যবহার করুন।
